হাসতে চান? আসছে ‘চুনি পান্না’

নবনীতা দত্তগুপ্ত: এক যে আছে চুনি আর একজন পান্না। চুনিকে দেখা যায় কিন্তু পান্না যে কোথায় কেউ জানে না। পান্নাকে কেবল দেখতে পায় চুনি। পান্না উঁকি মারে মাঝে মাঝে। আর এমন সব কাণ্ড সে চুনিকে দিয়ে ঘটিয়ে নেয় যে চুনির অবস্থা হয় করুণ। অভ্যাসগত ভাষায় যাকে বলি ‘কেস খাওয়া’। দিন রাত ওই পান্নার জন্য বাড়ির সকলের কাছে নানা কারণে কেস খায় চুনি। এটা চুনির বিয়ের পরের গল্প। কিন্তু বিয়ের আগের গল্পটা হল- সে ভুত ভালোবাসে। শাকচুন্নি, মেছো, মামদো, পেতনি, কিমভুত এদেরকে খুব ‘কিউট’ লাগে চুনির অর্থাৎ চয়ণিকার। আর এই নিয়ে তার পরিবারে যত অশান্তি।

" class="__youtube_prefs__" title="YouTube player" allow="autoplay; encrypted-media" allowfullscreen data-no-lazy="1" data-skipgform_ajax_framebjll="">

বাবা তো বলেই বসে, “এবার তোকে ভুতুড়ে বাড়িতে বিয়ে দেব।” আর এটা শুনে চুনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। শুরু হয় সম্বন্ধ দেখা। সেই সূত্রেই তার আলাপ হয় নির্ভীকের সঙ্গে। নির্ভীক আবার ঘরজামাই থাকতে চায়। কেন? কেননা তাদের বাড়িতে ভুত আছে। সেই ভুতটা তাকে খুব জ্বালায়। নির্ভীকদের বাড়িতে কোনও উত্তরসূরী আসতে দেয় না সেই ভুত। ওই বাড়িটা আসলে নির্ভীকের দাদু জলের দরে কিনেছিলেন। বাড়িতে প্রবেশমাত্রই ঘটতে থাকে নানা ধরনের উদ্ভট সব কাণ্ড! আর তার ফলে নির্ভীক এই বাড়ি ছাড়তে চায়। কেননা এই বাড়ি জীবনে বিক্রি হবে না যে তার একান্নবর্তী পরিবার অন্য কোথাও গিয়ে সংসার পাতবে। তাই ঘরজামাই হতে পারলেই এই ভুতুড়ে বাড়ি থেকে রেহাই মিলবে। আর ভুতের কথা শুনেই তো চুনি লাফাতে শুরু করে। সে নির্ভীককেই বিয়ে করবে। আর তাদের সেই ভুতুড়ে বাড়িতেই থাকবে বলে ঠিক করে। চুনি ভুতে ভয় পায় না। ভয় পায় শাশুড়ি, ননদ, জা, ভাসুরের চোখরাঙানিকে। চুনির মতে এদের থেকে ভুত অনেক ভাল। ভদ্র। ভুত দেখার আনন্দে সে নির্ভীকের বাড়ির জটিল একান্নবর্তী পরিবারের কথা ভুলে যায়। তারপর কী হয় তা জানতে হলে দেখতে হবে এই ধারাবাহিক।

ধারাবাহিকের সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কাহিনিকার তথা ধারাবাহিকের ক্রিয়েটিভ হেড সাহানা দত্ত বলেন, “সবসময়ই নতুন কিছু করার ভুত আমার মাথায় ঘোরাফেরা করে। তাই ভুতের গল্প ফাঁদলাম। তবে ভয়ের নয়। বরং মজাই বেশি আছে এই ধারাবাহিকে। ভুত ঘিরে মজা যাকে বলে। ভুতের ঘটানো নানা কাণ্ডেই যত গণ্ডগোল ঘটবে পরিবারে। আর চুনি কী ভাবে সব কিছু ম্যানেজ করে সেটাই দেখার এই ধারাবাহিকে।” প্রথমে খোলসা করতে না চাইলেও পরে সাহানা বলেই ফেলেন এই ভুতটিই হল পান্না। এর সঙ্গে চুনি আর নির্ভীকের পরিবারের কী সম্পর্ক তা খোলসা করলেন না তিনি।

চুনি অর্থাৎ অণ্বেষা বলেন, “আমি ভুতের থেকে বেশি মানুষকে ভয় পাই। ভুতে আমার ভয় নেই। তবে চুনির মতো গভীর রাতে হানা বাড়িতে হানা দেওয়ার মতো বুকের পাটাও আমার নেই।” ওদিকে নির্ভীক এবং দিব্যজ্যোতি দুজনেই ভুতে ভয় পায়। ফলে নির্ভীকের চরিত্রটা করতে কোনও অসুবিধা হবে না বলে আশাবাদী দিব্যজ্যোতি দত্ত। তিনি জানান-“সারাদিনের ঝক্কি সামলে রাত সাড়ে ১০ টায় দর্শককে ‘ডিটক্স’ করে দেবে এই ধারাবাহিক।”  চুনির চরিত্রে অণ্বেষা হাজরা। নির্ভীকের চরিত্রে দিব্যজ্যোতি দত্ত। এ ছাড়াও রয়েছেন দেবদূত ঘোষ, ছন্দা চট্টোপাধ্যায়, ময়না মুখোপাধ্যায়, পার্থসারথি দেব সহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত এর আগে এমন হরর-কমেডি নিয়ে কাজ হয়নি বাংলা টেলিভিশনে। এই প্রথম এমন উদ্যোগ৷ এখন কথা হল শাশুড়ি-বউমার সাংসারিক চক্কর আর সাহিত্য কিংবা পিরিয়ডধর্মী ধারাবাহিকে অভ্যস্ত দর্শক পান্না ভুত আর ভুতপ্রেমী চুনিকে কতটা মেনে নেবে। সময় অবশ্যই জানান দেবে সেই কথা। ১১ নভেম্বর থেকে সোম থেকে রবি রাত সাড়ে ১০ টায় স্টার জলসায় সম্প্রচারিত হবে ‘চুনি পান্না’।

sweta

(Visited 34 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here