আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর ১দেশ

‘আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেল’! তেলেঙ্গানায় এনকাউন্টারের পর প্রতিক্রিয়া ধর্ষিতার বাবার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেল’! হায়দরাবাদে গণধর্ষণকাণ্ডে এনকাউন্টারে চার ধর্ষকের মৃত্যুর পর এমনই প্রতিক্রিয়া দিলেন ধর্ষিতা তরুণীর বাবা।

শুক্রবার সকাল হতেই গোটা দেশবাসীর কাছে একটাই খবর ছিল তা হল পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয়েছে হায়দরাবাদ গণধর্ষণকাণ্ডের চার অভিযুক্ত। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৩ টে নাগাদ তেলাঙ্গানার সামশাবাদের ৪৪ নং জাতীয় সড়কের ধারে  ঘটনার পুনর্নিমানের জন্য  চার অভিযুক্ত- মহম্মদ আরিফ, নবীন, চিন্তাকুন্তা কেশাবুলু ও শিবাকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ঘটনা পূনর্নির্মাণের সময়ই পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। তখনই শুরু হয় এনকাউন্টার। পুলিশের গুলিয়ে মৃত্যু হয় চার অভিযুক্তেরই।

এরপরই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের প্রতিক্রিয়া। আর এর ঠিক পরেই ধর্ষিতা তরুণীর বাবা প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, এতদিনে আমার মেয়ের আত্মার শান্তি হল। তিনি তেলেঙ্গানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ধর্ষিতার বোনও। তিনি বলেছেন, তাঁর দিদির সঙ্গে যা হয়েছে তা উদাহরণ হয়ে থাকবে। ওই ভয়ঙ্কর রাতের কথা চিন্তা করে তিনিও তেলেঙ্গানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

[আরও পড়ুনঃ পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হায়দরাবাদ কান্ডে অভিযুক্তরা]

প্রসঙ্গত, ২৭ নভেম্বর রাতে তেলাঙ্গানার সামশাবাদের ৪৪ নং জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার সময় স্কুটির টায়ার পাংচার হয়ে বিপদে পড়েন ওই তরুণী। সেইসময় নিজের বিপদের কথা বোনকে ফোন করে জানিয়েছিলেন ওই তরুণী। তিনি এও জানিয়েছিলেন দুইজন ট্রাকচালক তাকে লক্ষ্য করছে। এর ঠিক পরেই বোন তাকে পরামর্শ দেয় স্কুটি ওই স্থানে রেখেই সে যেন ফিরে আসে। এরপর কিছুক্ষণ পর আর দিদিকে ফোনে পাওয়া যায়নি, ফোন সুইচট অফ হয়ে যায় তাঁর বলে জানিয়েছেন তুণীর বোন। তরুণীর পরিবার থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করতে গেলে তা নিতে অস্বীকার করে পুলিশ, এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকেরা।

পরের দিন  ওই তরুণী পশু চিকিৎসকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। জানা যায় ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন ওঠে। সাসপেন্ড করা হয় তিন পুলিশ অফিসারকে। ঘটনার তদন্তে নেমে চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।  জেল হেফাজতে থাকাকালীন তাদের ঘটনার পুনর্নির্মাণ-এর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, এইসময় পালাতে যায় চার অভিযুক্ত, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় এই চারজনের।  এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর হায়দরাবাদ জুড়ে উচ্ছ্বাসের হাওয়া দেখা যায়। সকাল থেকেই সেখানে বিভিন্ন রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ।

 

sreemoyee

(Visited 10 times, 1 visits today)

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close