মায়ের মৃতদেহ আটকে রাখল মেয়ে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 8, 2019 | 6:29 am

বেহালার একটি আবাসনে তিনদিন ধরে মায়ের মৃতদেহ আটকে রাখল মেয়ে

কলকাতা: তিনদিন ধরে মায়ের মৃতদেহ আটকে রেখেছিল মেয়ে। শেষ পর্যন্ত রবিবার বিকেলে সেই মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বেহালার শুরশুনা থানার রাখল মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটের এক আবাসনে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের ধারণা, তিন দিন আগে মৃত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধা ছায়া চট্টোপাধ্যায়ের। পুলিশ জানায়, ‘সম্ভবত অপুষ্টি, অনাহার এবং বার্ধক্য জনিত রোগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। ওই বাড়িতে মায়ের মৃতদেহ আগলে ছিলেন ছায়ার বৃদ্ধ স্বামী এবং মেয়ে নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়’। পুলিশ জানিয়েছে, ‘নীলাঞ্জনার মামাতো এক ভাই আছেন। তাঁকে খবর দেওয়া হয়েছে’।

কলকাতা পুলিশের ১০০ ডায়ালে আজ রবিবার দুপুরে একটি ফোন আসে। সেই ফোনেই প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানান, রাখাল মুখোপাধ্যায় রোডের একটি বহুতলে নিজের ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ছায়া চট্টোপাধ্যায় নামে ৮২ বছরের এক বৃদ্ধা। ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সরশুনা থানার পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ওই বৃদ্ধার দেহ ডাইনিং রুমের মেঝেতে দেখতে পায়। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসেও ওই বাড়ি থেকে একই ভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল ছায়া চট্টোপাধ্যায়ের ৫৬ বছর বয়সী ছেলে দীপাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের দেহ। সেই সময়েও তদন্তে জানা যায়, অন্তত তিন দিন আগে মৃত্যু হয়েছিল দীপাঞ্জনের। দেহ পচে গন্ধ বেরোতে থাকে। তখন প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে দেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, ছায়া চট্টোপাধ্যায়ের স্বামী শয্যাশায়ী। তাঁর কথাবার্তাও অসংলগ্ন। একই রকম ভাবে অসংলগ্ন মেয়ে নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়ের কথাবার্তা। মেয়ে দাবি করেন, ‘আমার মা তো মারা যাননি। মায়ের শরীর খারাপ। মাকে প্রতিবেশীরা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘পরিবারের সবাই মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এরা কারওর সঙ্গে মেশেও না। আর্থিক অবস্থাও বেশ খারাপ’। অন্য এক প্রতিবেশী বলেন, ‘এঁরা মানসিক ভাবে এতটাই অসুস্থ যে এঁদের রান্নাবান্নাও হয় না। ইদানীং সকাল বিকেল কোনও এক আত্মীয় খাবার পৌঁছে দেন’।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *