উপেক্ষিত যাত্রাশিল্পকে চাঙ্গা করতে স্বয়ং মন্ত্রীই শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকায়

লক্ষ্মীশ্রী রায়, কালনা: উপেক্ষিত যাত্রা শিল্পকে চাঙ্গা করতে স্বয়ং মন্ত্রীকে দেখা গেলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকায়। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের সেই যাত্রা দেখতে আসরে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারা সহ প্রায় বারো হাজার দর্শক।

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুরের যাত্রামোদী বাসিন্দা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শকরা মনোমুগ্দ্ধ হয়েই দেখলেন পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত ‘গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম’। গঙ্গার ভূমিকায় বিশিষ্ট অভিনেত্রী রুমা চক্রবর্তীর অভিনয় দেখে প্রশংসায় পন্চমুখ হোন সকলেই। আর এইরকম এক পরিবেশে যাত্রার সেই হারিয়ে যাওয়া উন্মাদনাকে দেখেই আনন্দে চোখে জল চলে আসে অনেক যাত্রামোদীর। কারণ এইবার থেকে আবার নতুন করে আশার সন্চার হয় ওই এলাকায় যাত্রাপালা হওয়ার।

একসময় গ্রামবাংলায় যাত্রা মানেই ছিলো উৎসবের আমেজ। তার সঙ্গে ছিলো অন্যরকম একটা ভালোলাগার স্বাদ। পাড়ার ঠেকে বসেই চলতো যাত্রাপালার আলোচনা। ছিলো আবেগ ও উন্মাদনা।কিন্ত পরবর্তীকালে ক্রমশই তা ম্লান হয়ে গিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুরের বাসিন্দারা ষোলো বছরেরও বেশী সময় ওই এলাকায় কোনো যাত্রাপালার মুখ দেখেননি বলে দাবি রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের। তাই যাত্রামোদীদের একটা আক্ষেপ থেকেই গেছে। তাই উপেক্ষিত সেই যাত্রা নিয়েই শুরু হয় ফের আলোচনা।

এই বিষয়ে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘ষোলো বছরেরও বেশী সময় শ্রীরামপুরে যাত্রা হয়নি। তাই নতুন করে যাত্রাশিল্পকে চাঙ্গা করতেই এই উদ্যোগ। তবে যাত্রাকে নিয়ে মানুষের মনে এখনো যে ভালোবাসা চরম পরিমাণে রয়েছে তা দর্শকদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী যাত্রাশিল্পকে চাঙ্গা করতে অনেক পরিকল্পনারই বাস্তব রূপ দিয়েছেন। কারণ এই যাত্রা শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষের রুটিরুজি জড়িয়ে আছে। অথচ,যাত্রা শিল্প উপেক্ষিত ছিলো। এই শিল্পের উন্নয়নে কী করা যায়, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এখনো অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের এই চৈতন্য অপেরার যাত্রাপালা শুধু ভিন জেলাই নয় রাজ্যের গন্ডীও ছাড়িয়েছে তার জনপ্রিয়তা দিয়ে।’

@এস. এ. হামিদ

(Visited 100 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here