নাগা ইস্যুতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে মনিপুর!

অরুনাভ সৈকিয়া: ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় মনিপুর রাজ্যে সোশাল মিডিয়া গ্রুপগুলোতে একটি স্পর্শকাতর খবর ছড়িয়ে পড়ে, যেটা মূলত পাকিস্তানের একটি সংবাদ সংস্থা প্রকাশ করেছে। সেটা হলো রাজ্যের দুজন মানুষ ভারত থেকে তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং যুক্তরাজ্যে তারা ‘প্রবাসী সরকার’ গঠন করেছে।

পরদিন সকালে স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে এর ব্যাখ্যা দেন রাজ্যের আইনগত রাজা লেইশেম্বা সানাজাওবা। যার পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণার দাবি করেছে ওই দুই ব্যক্তি। সানাজাওবাকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, তিনি এই বিদ্রোহের অংশ নন।

এর কিছু পরেই একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে মেইতি রয়্যাল পরিবারের অংশ সানাজাওবাকে দেখা গেছে যিনি এর সাথে কোন সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করছেন। মনিপুরের সংখ্যাগুরু মেইতি সম্প্রদায়ের নেতারাও এ ঘটনাকে গুরুত্ব দেননি। প্যান মেইতি কনভেনশানের প্রেসিডেন্ট হেইগরুজাম নাবাশ্যাম বলেছেন, “এটাকে এত গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই”। এই সংগঠনটি সারা ভারতে মেইতিদের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে আসছে।

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে যদিও অপচেষ্টা হিসেবে বাতিল করে দেয়া চলে, কিন্তু নাগা শান্তি আলোচনার পরিণতিতে মনিপুরের সাথে কেন্দ্রে তিক্ত সম্পর্কটি এখানে আবারও পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেছে।

১৯৪৯ সালে ভারতীয় ইউনিয়নের সাথে মনিপুরের সম্মিলনটা খুব একটা আন্তরিক পরিবেশে হয়নি। এই রাজ্যের রাজাকে গৃহবন্দী করে উপদেষ্টাদের থেকে দূরে রাখা হয়েছিল এবং সে অবস্থাতেই তাকে দিয়ে এই অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়।

বহু বছর ধরে এটার সূত্রে বিচ্ছিন্নতাবাদী গেরিলা তৎপরতা চলেছে, যেটা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর পছন্দ হয়নি। ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যে সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো দেখলে বোঝা যায় তাদের সেই মানসিকতা কখনও দূর হয়নি। মনিপুরের সশস্ত্র মেইতি গ্রুপ এখনও ভারতের সাথে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কার্যত, ওই অঞ্চলের সীমিত কিছু সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে তারা অন্যতম, যারা কখনও ভারত সরকারের সাথে কোন চুক্তিতে যায়নি।

তাছাড়া, এই রাজ্যের যে বহুজাতিক সমাজ রয়েছে, তার অর্থ হলো, বহু দশক ধরে, এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে আসছে।
২৩ অক্টোবর হাজার হাজার নারী ইমফালের রাস্তায় নেমে আসে। মনিপুরের ‘অখণ্ডতা’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা প্রতিবাদ করে।

নাগা জাতীয়তার মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, মনিপুরের পাহাড়ি এলাকার একটা বড় অংশ তাদের কল্পিত মাতৃভূমি নাগালিমের অংশ। যদিও আঞ্চলিক ভূখণ্ডের ভাগাভাগি কোন প্রস্তাবিত সমাধানের মধ্যে থাকবে না, তবে মনিপুরের নাগা-প্রধান এলাকাগুলোর প্রশাসনে কিছু দৃশ্যমান রদবদল করা হতে পারে।

মনিপুরে, নাগাদের শুধু মেইতি জাতীয়তার মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা চলছে না, বরং কুকিদের সাথেও প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। বাস্তবে, নাগা আর কুকিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি তীব্র। মনিপুরের পাহাড়ি এলাকায় কুকিদের কল্পিত মাতৃভূমির একটা বড় অংশই নাগালিমের মধ্যে পড়েছে। ফলে এটা নিয়ে বহু বছর ধরে তিক্ত সঙ্ঘাত আর রক্তপাত চলে আসছে। এখন কুকিদের আতঙ্কও একটা চরম পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, তাদের ‘মাতৃভূমির’ একটা অংশ নাগা স্যাটেলাইট কাউন্সিলের সাথে যুক্ত হতে পারে।

যেমনটা হওয়ার কথা, মনিপুরের প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে। মুখ্য সচিব জে সুরেশ বাবু বলেছেন, রাজ্য থেকে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি জানান, “আমাদের জন্য ১৫ কোম্পানি বরাদ্দ করা হয়েছে”।

কিছু ‘স্পর্শকাতর’ জেলাতে, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়েছে।

-লেখাটি স্ক্রল.ইন থেকে নেয়া।

(Visited 23 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here