কিংবদন্তী স্যাক্সোফোন বাদক মনোহরি সিং

কিংবদন্তী স্যাক্সোফোন বাদক মনোহরি সিং থেমেছিলেন ১৩ জুলাই

মনোহরি সিং। নামটা হয়তো এখনও অনেকের কাছে অজানা। ‘কাশ্মীর কি কলি’ ছবির সেই সিকোয়েন্সটা মনে পড়ে? শাম্মী কাপুর ‘বার’-এ গাইছেন একটি দুঃখের গান;  ও পি নায়ারের সুরে, মহঃ রফির অসামান্য গায়কী আর তার সাথে নেপথ্যে বাজছে মন মাতানো একটি স্যাক্সোফোন। সেই স্যাক্সোফওনের সুর দিয়েছিলেন মনোহরি সিং। আজ তাঁর মৃত্যুদিন। তাঁর বাজানো যন্ত্রেই আমরা মুগ্ধ হয়েছি বারবার।

তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। কাজ করতেন একটি মিলিটারি ব্যান্ডে। তারপর তৎকালীন বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ‘ফারপো’- তে যোগ দেন; সেখানে উনি বাজাতেন। সেখানেই আলাপ সলিল চৌধুরীর সাথে, যিনি মুগ্ধ হন বাজনা শুনে। সলিলের সাহায্যেই পাড়ি দেন মুম্বই।

বোম্বাইয়ে প্রথম কাজের সুযোগ দেন শচীন কর্তা। তাঁর ‘সিঁতারো সে আগে’ (১৯৫৮)ছবিতেই প্রথম বাজানোর সুযোগ পান মনোহারি সিং। কিন্তু সে ছবির গান তেমন চলেনি, তাই সেভাবে কেউ জানতে পারলো না এই প্রতিভার আগমনের কথা। তবে চোখে পড়েছিলেন কল্যাণজীর; উনি তখন উঠতি সুরকার (আনন্দজী যোগ দেন পরে)। ‘সাট্টা বাজার’ (১৯৫৯) ছবিতে মনোহারিকে সুযোগ দিলেন কল্যাণজী; Saxophone নির্ভর সেই গান আজও জনপ্রিয়, হেমন্ত- লতার কণ্ঠে- ‘তুমহে ইয়াদ হোগা কভি হম মিলে থে’।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ডেকে নিলেন তখনকার সেরা সঙ্গীত পরিচালকরা। শঙ্কর জয়কিষণ, মদনমোহন, ও. পি. নায়ার, সলিল চৌধুরী, রোশন, চিত্রগুপ্ত, রবি- সবার সাথে বাজাতে শুরু করলেন মনোহারি। কিছু গানে তো ওনার বাজানো স্যাক্সোফোন হয়ে উঠল প্রধান আকর্ষণ।

এরপর ১৯৬১ তে সঙ্গীত জগতে পা রাখলেন রাহুল দেববর্মণ। আগে থেকেই মনোহারির সাথে গভীর বন্ধুত্ব ছিল তাঁর; শচীন কর্তার সাথে এক সাথেই কাজ করেছেন দুজনেই। রাহুলের প্রথম ছবিতে সহকারীর ভুমিকা পালন করেন লক্ষ্মীকান্ত প্যারেলাল। স্বাধীনভাবে সঙ্গীত পরিচালনার কাজ শুরু করেন এবং খুব দ্রুত চলে আসেন প্রথম সারিতে। ওনাদের গ্রুপেও Saxophone বাজাতেন মনোহারি।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here