বিপুল পরিমাণে বোমা উদ্ধার বীরভূমে

বীরভূমে একাধিক জায়গা থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণে বোমা

বীরভূম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তির বীরভূম বর্তমানে রূপান্তরিত হয়েছে বারুদের বীরভূমে। এমনই কটাক্ষ রাজনৈতিক মহলের। আর এই অভিযোগ অথবা মন্তব্যের পর গত শনিবার থেকে নড়েচড়ে বসে বীরভূম পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের একের পর এক রাতভর অভিযানে রবি ও সোমবার জেলা থেকে মোট ৪৬৪ জন গ্রেফতার হয়, উদ্ধার হয় দুশোর কাছাকাছি বোমা, উদ্ধারের তালিকায় দেশী পিস্তল এবং কার্তুজও রয়েছে। কিন্তু তারপরেও কি শান্তি ফিরেছে বীরভূমে! এখন এটাই কোটি টাকার প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।কারণ, বুধবার সকাল হতেই মুড়ি-মুড়কির মতো বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বীরভূমের সদাইপুর থানার অন্তর্গত সাহাপুর গ্রাম। কাটমানিকে কেন্দ্র করে এই গ্রামে উত্তেজনা বলে জানা গিয়েছে। উত্তেজনার পরিস্থিতি এতটাই ব্যাপক আকার ধারণ করে যে, সিউড়ি পুলিশ লাইন থেকে ডিএসপি ডিএনটি অভিজিৎ মন্ডলের নেতৃত্বে এলাকায় পৌঁছাতে হয় বিশাল পুলিশবাহিনীকে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং ঘটনায় আটক করে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ঘনিষ্ঠ আট জনকে। এখানেই শেষ নয়, এরপরেও আজ সকাল থেকেই বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় থাকতে দেখা যায় ড্রাম ড্রাম ভর্তি বোমা।

সাত সকালেই নানুর থানার বন্দর গ্রাম থেকে খুজুটিপারা যাওয়ার রাস্তায় একটি পোলট্রি ফার্মের পিছনে মজুদ অবস্থায় দেখা যায় চার ড্রাম বোমা। স্থানীয় বাসিন্দারা সেই বোমাগুলি দেখে নানুর থানার পুলিশকে খবর দিলে নানুর থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। তারপর খবর দেওয়া হয় বোম স্কোয়াডকে। বোম স্কোয়াড এসে নিষ্ক্রিয় করে বোমাগুলি।তারপর আবার পাঁড়ুই থানার অন্তর্গত শিমুলিয়া গ্রামে একটি পুকুরের পাড়ে খোঁজ পাওয়া যায় তিন ড্রাম তাজা বোমার। সেগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায় পাঁড়ুই থানার পুলিশ। প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেল বেলাতেও এক ড্রাম ভর্তি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছিল সিউড়ি থানার অন্তর্গত খটঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভান্ডিরবন গ্রামের বালিঘাট থেকে।

বোমা বারুদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে পুলিশের ব্যাপক অভিযানের মাঝেও এত পরিমাণে বোমা কারা মজুদ রাখার সাহস পাচ্ছে? এত বিপুল সংখ্যক বোমা মজুদ রাখার উদ্দেশ্যই বা কি? প্রশ্ন জেলাবাসীদের।

(Visited 2 times, 1 visits today)