বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে পড়া নিয়ে শঙ্কিত কলকাতার পুরকর্তারা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 10, 2019 | 4:08 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গুজরাতে তিন তলা বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পর শঙ্কিত কলকাতা পুরসভার কর্তারা। এ শহরেও মাঝে মাঝেই পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে পুরসভা। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কিত পুরকর্তারা।

কলকাতায় অতি বিপজ্জনক বাড়ির তালিকা ৩০০-র ওপর। রয়েছে আরও প্রায় তিন হাজার বিপজ্জনক বাড়ি। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে বাড়ি ভাঙার কাজে যথেষ্ট পিছিয়ে পুরসভা। এই বর্ষায় বাড়ি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কার তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অহরহ। গৃহমালিকদের সংগঠন অল ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুকুমার রক্ষিতের মতে, এই অবস্থার জন্য দায়ী সরকার এবং পুরসভার উদাসীনতা। তারা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য মালিকদের আইনি অধিকার আর বাস্তবতার তোয়াক্কা না করে বার বার ভাড়াটিয়াদের পক্ষ অবলম্বন করেছে। তার ফলে কাজের কাজ কিছু হয়নি। জীর্ণ বাড়ি আরও বিপজ্জনক হয়েছে। ফি বছরই বর্ষাকালে কলকাতা পুরসভা এলাকায় বাড়ি ভেঙে দুর্ঘটনা-মৃত্যু-জখমের ঘটনা প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পরেই পুরসভার পক্ষ থেকে বেশ কিছু কড়াকড়ির কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শহর কলকাতার রাস্তায় হাঁটলে দিব্যি দেখা যাবে, ঘোষণা আছে কেবল কাগজপত্রেই। তাকে লাগু করা হয়নি। নাম কা ওয়াস্তে দু একটি বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙা পড়ে বটে, তবে তা নেহাৎই হাতে গোনা। এই ব্যাপারে পুরসভা যে খুবই তৎপর, তেমন কথা তাঁদের অতি বড় সমর্থকও বলতে লজ্জা পাবেন।

বিশিষ্ট স্থপতি তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল দীপঙ্কর সিংহ এই প্রতিবেদককে বলেন, “পুরনো বাড়ি জীর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি নির্মাণগত ত্রুটির জন্য অপেক্ষাকৃত নতুন বাড়িও ভেঙে পড়ে। কলকাতার ঘন বসতিপূর্ণ অঞ্চলে কাউকে উৎখাৎ না করেই একটি করে নির্দিষ্ট অঞ্চল বেছে সেখানে পরিকল্পনামাফিক নতুন বাড়ি তৈরি করা যায়। আমি পুরসভায় থাকার সময় বাগবাজারে মায়ের বাড়ির কাছে এবং ধাপায় এ রকম পরিকল্পনা করেছিলাম। তবে, সমাজের সর্বস্তরের আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে এর রূপায়ণ সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি চলে আসে রাজনৈতিক বাধা। “এ ব্যাপারে বিরোধীদের দাবি খুবই স্পষ্ট। তাঁরা চান, এ ধরনের বাড়ির আবাসিকদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙা হোক।” তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার সদিচ্ছা থাকলে এ পরিস্থিতি তৈরি হত না।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট