খাগড়াগড় কাণ্ডে সাজা মুকুবের আবেদন, আদালতের দ্বারস্থ আরও পাঁচ অভিযুক্ত

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে দোষ স্বীকার করার পর এবার সাজা মুকুবের আবেদন জানাল পাঁচ অভিযুক্ত। ৩০ আগস্ট খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে ১৯ জন দোষীর সাজা ঘোষণা হয়। সেই সাজা মকুবের আবেদন জানিয়েছিলেন এবার বুরহান শেখ, এনামুল মোল্লা, ফয়জুল হক, হাবিবুর রহমান শেখ, হাবিবুল হক। সূত্রের খবর, এদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৪ নভেম্বর বিচার ভবনের এনআইএয়ের বিশেষ আদালতে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

তাদের বক্তব্য, সবারই পরিবার ও সন্তানসন্ততি রয়েছে। তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও কর্তব্য রয়েছে। সেই কারণেই তারা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চায়। আর এই যুক্তিতেই সবচেয়ে কম সাজার আর্জি জানায় তারা।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬ জনের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা হয়েছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড। দুই মহিলা এবং অসমের এক ছাত্রের ৬ বছরের কারাদণ্ড হয়। বাকিদের ৮ বছরের। এর সঙ্গে প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশও দিয়েছিলেন বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল। এই রায়ের পরবর্তীতে সাজা মুকুবের আবেদন নিয়ে আরও পাঁচজন নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান জানান, দোষী ১৯ জনই সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চেয়ে সর্বনিম্ন সাজার আর্জি জানিয়েছিল নিম্ন আদালতে।

বিচারপতি প্রত্যেককে- ইন্ডিয়ান পেনাল কোর্ড (IPC)এর ১২০-বি (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), ১২৫ ( রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা) ধারায় সাজা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের তিন জনের উপর অতিরিক্ত ‘ফরেনারস অ্যাক্ট’ লাঘু হয়। সেইসাথে, আবুল কালাম, আবদুল ওহাব মোনিন ও হাবিবুর রহমানকে আদালতের কাছে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। সেইসাথে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ১ বছর জেল খাটতে হবে দোষীদের।’

  • ৬ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন

১) গুলসাহানার বিবি

২) আলিমা বিবি

৩) সাইকুল ইসলাম (ছাত্র)

  • ৮ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন

৪) আব্দুল হাকিম

৫) রেজাউল করিম

৬) আবুল কালাম

৭) আব্দুল ওহাব মোমিন

৮) হাবিবুর রহমান

৯) নুরুল হক মন্ডল

১০) মোফাজ্জেল আলি

১১) গিয়াসুদ্দিন মুন্সি

১২) মহম্মদ সাহানুর আলম (অসম)

১৩) আমজাদ আলি সেখ

  • ১০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন

১৪) সেখ রহমতুল্লাহ (বাংলাদেশ)

১৫) সাইদুল ইসলাম

১৬) মহম্মদ জুবের (বাংলাদেশ)

১৭) সাব্বির আলি তারিকুল (বাংলাদেশ)

১৮) লাল মহম্মদ

১৯) হাবিবুর রহমান ওরফে জাইদুল ইসলাম

উল্লেখিত- ১৯ জনের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশের, ১৫ জন পশ্চিমবঙ্গের এবং ১ জন আসামের বাসিন্দা। এদিন সাজা ঘোষণার আগে বিচারক দোষীদের বলেন, ‘তোমরা জানো তোমরা যে অপরাধ করেছ তাতে তোমাদের কি সাজা হতে পারে? তোমাদের কি এই নিয়ে কিছু বলার আছে?’ জবাবে এইকাণ্ডে অভিযুক্ত রাজিয়া বিবি ও হালিমা বিবি বলেন, ‘আমাদের ভুল হয়ে গিয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে। দয়া করে আমাদের লঘু শাস্তি দেওয়া হোক। আপনার সামনে আমরা দোষ স্বীকার করেছি।’ অন্যান্য অপরাধীরাও  এদিন কম শাস্তি দেওয়ার আবেদন করেন। অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী ফজলে আহমেদ খানও এদিন ‘কম শাস্তি দেওয়ার জন্য’ আদালতে আবেন করেন। যদিও, এনআইএ আইনজীবী শ্যামল ঘোষ মামলার গুরুত্ব বিচার করে শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানান। এরপর বিচারক বিচারক সব শুনে জানান বিকেল চারটের পর দোষীদের সাজা’র রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর বিচারপতি এদিন জানান, ‘আপনারা চাইলে সাজার উপর হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। প্রয়োজনে রাজ্য আইনজীবী দিতে পারে।’  অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী ফজলে আহমেদ বলেন, ‘কেউ যদি নিজেদের সংশোধন করতে চাই, তাহলে তাদের জন্য এই সময় যথেষ্ট’। অন্যদিকে, এনআইএ আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘দোষীদের আমরা যাবজ্জীবন সাজা চেয়েছিলাম, তবে এই রায়ে আমরা খুশি’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর অষ্টমীর দিন দুপুরে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বর্ধমানের খাগড়াগড়। প্রকাশ্যে আসে এরাজ্যে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-জঙ্গি নেটওয়ার্কের  জাল। চার্জ গঠন ও ট্রায়াল শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকেই। মোট ৮০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সূত্রে খবর,  গত ২৮ অগাস্ট আদালত এনআইয়ের দেওয়া পিটিশন গ্রাহ্য করে ও ওই ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই ঘটনার ব্যাপ্তি বা পরিধি এতটাই বেশি যে এখনও বিভিন্ন সময়ে এই ঘটনায় অভিযুক্তরা গ্রেফতারের পর নতুন করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া ও তা নিয়ে ফের আদালতে শুনানি হতে হতেই পাঁচ বছরের পথ অতিক্রম। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ৩০ আগস্ট বর্ধমান খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে রায় দেন আদালত।

@এস. এ. হামিদ

(Visited 20 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here