বিষ্ণুপুরের গুনিনবাড়িতে জামাইষষ্ঠীতে জামাই আদর হল গাছের চারা দিয়ে

ইন্দ্রানী সেন,বাঁকুড়া: জামাইষষ্ঠীর জামাই আদর গাছের চারা দিয়ে। জামাইষষ্ঠীর দিন জামাই বাবাজীবনদের অভিনব উপহারে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে বিষ্ণুপুরের দক্ষিণ বেলা পাড়ার দুই শ্বাশুড়ী রাধারানী দে ও বাণী গুনিন পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তুলে দিলেন দুটি গাছের চারা। যা পেয়ে যারপরণাই খুশি জয়পুরের রাজগ্রাম শশীভূষণ ইনস্টিটিশউনের জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষক, রাধারাণীদের জামাই প্রশান্ত বিশ্বাস ও তার বন্ধু পেশায় ব্যবসায়ী উৎপল বায়েন। তিনিও তাঁর শাশুড়ি বাণী গুনিনের কাছ থেকে একই উপহার পেয়েছেন।

সকাল থেকেই সন্তানসম জামাই ও নিজের মেয়ের মঙ্গল কামনায় ছুটে গিয়েছেন ষষ্ঠীতলায়। তার ফাঁকেই পেল্লাই রান্নার আয়োজনে দম ফেলার জায়গা নেই শ্বাশুড়ীদের। আর পাঁচ জন শাশুড়ি মায়ের মতো এঁরাও সকাল থেকে জামাইয়ের মঙ্গলকামনায় উপবাস করে মা ষষ্ঠীর পুজো দিয়েছেন। তারপর জামাইদের জন্য পঞ্চব্যাঞ্জন সহযোগে রান্নার আয়োজন করেছেন। সাথে সাথেই উপহারেও যে এই ধরনের চমক অপেক্ষা করছে ভেবে পাননি এই জামাই দুজন। এদিন সকালেই শহরের গোপাল গঞ্জের বাসিন্দা উৎপল বায়েন স্ত্রী চুমকি বায়েনকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ বেলাপাড়ার শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে গেছেন। একই সঙ্গে উৎপল বাবুর বন্ধু কলেজ রোডের বাসিন্দা প্রশান্ত বিশ্বাস তাঁর স্ত্রী শিপ্রা বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে ঐ বাড়িতেই নিমন্ত্রণ রক্ষায় উপস্থিত। কথা ছিল দুই বন্ধুর শাশুড়িরা একসাথে একবাড়িতে জামাইষষ্ঠী উদযাপন করবেন। খাওয়া দাওয়া শেষ এবার উপহারের পালা।

জামাইষষ্ঠীতে অভিনব এই উপহার পেয়ে বেজায় খুশি শিক্ষক জামাই প্রশান্ত বিশ্বাস। তিনি বলেন, জীবনের সেরা উপহার। শাশুড়িমার কাছ থেকে এরকম একটা উপহার পাবো কখনওই ভাবতে পারিনি। বর্তমান সময়ে যখন গাছের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে তখন এই ধরণের উপহার পেয়ে খুব ভাল লাগছে। শাশুড়ি বানী গুনিন উপহার প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সময় পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ছে। আর তা থেকে বাঁচতে বেশি করে গাছ লাগানো জরুরি। আজকের এই বিশেষ দিনে তিনি যেমন তাঁর জামাইয়ের হাতে চারা গাছ তুলে দিলেন, দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে প্রত্যেক শাশুড়িদের গাছ উপহার দিয়ে গাছ লাগানোর বার্তা ও দিলেন।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *