অর্জুনকে বিপাকে ফেলতে চায় নবান্ন

কর ফাঁকির মামলায় অর্জুনকে বিপাকে ফেলতে তোড়জোড় নবান্নের অন্দরে

কর ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগে তিনশোর বেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করল ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট (ডিআরআইই)। দু’শোর বেশি কোম্পানির ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডিআরআইই সংস্থাগুলির লেনদেনের ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করে। তার প্রাথমিক রিপোর্টও নবান্নে জমা পড়েছে বলে খবর।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ৬০০টি সংস্থার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ে। বলা হয়, প্রতিটি সংস্থার সঙ্গেই ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের যোগ রয়েছে। সংস্থাগুলির শেয়ারের মোট মূল্য সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে শুধু বিজেপি সাংসদেরই ঘোষিত শেয়ারের মূল্য ৮০০ কোটি টাকার বেশি। অভিযোগ পাওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে তদন্তের দেখভাল করা হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

কিন্তু তাতে অর্জুনের যোগসূত্র তেমন মেলেনি। এ প্রসঙ্গে অর্জুন বলেন, ‘‘আমার নামে কোনও কোম্পানি নেই। নোটিশ এলে তার জবাব দেব। অর্জুন সিংহের কোম্পানির ব্যাপারে চিন্তা না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরং ভাইপোর কোম্পানির ব্যাপারে ভাবুন। সেই সময় এসে গিয়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই মমতাদিদি তা বুঝতে পারবেন।’’

এর পর প্রায় ২০টি কোম্পানির ডিরেক্টরদের নোটিশ পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকা হয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে ডিরেক্টরেরা হাজিরাও দিয়েছেন। তবে এ নিয়ে ডিআরআইই’র প্রধান রণধীর কুমারকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। মেসেজেরও জবাব
দেননি। রাজ্যের রাজস্ব ফাঁকি রুখতে কেন্দ্রের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং ডিরেক্টরেট অব রেভেনিউ ইনটেলিজেন্সের ধাঁচে ডিআরআইই তৈরি করেছে নবান্ন। নবান্নের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ৩০৯টি কোম্পানিকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়। সেগুলির মধ্যে ৫৫টি কোম্পানিতে অর্জুন সিংহ, সুনীল সিংহ এবং সুশীল সিংহ নামে তিন ব্যক্তির কেউ না কেউ ডিরেক্টর রয়েছেন বলে হদিস মেলে। বাকি সংস্থাগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলির কোনও অস্তিত্ব নেই। কাগুজে কোম্পানি হিসেবে সেগুলি চালানো হচ্ছে। তাদের ডিরেক্টরদের নাম-ঠিকানাও ভুয়ো বলে জানতে পেরেছে ডিআরআইই।

এর পর ওই ৫৫টি সংস্থার লেনদেন ও কারবার নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। নোটিশ পাঠিয়ে শুনানিতে ডিরেক্টরদের ডাকা হচ্ছে। বিজেপি সাংসদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সংস্থাগুলি আইন মেনেই চলছে। ইতিমধ্যেই ৩১টি সংস্থার ডিরেক্টর হাজিরা দিয়ে নথিপত্র দেখিয়ে এসেছেন।দরকারে ফের যাওয়া হবে। অর্থ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোম্পানির আইনে রাজ্য
সরকার কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে না। ভুয়ো কোম্পানির হদিস পেলে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকে চিঠি লিখে তা বাতিল করতে বলতে পারে মাত্র। রাজ্য তাই জিএসটি, ভ্যাট, আবগারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনও কর ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। অন্য দিকে অর্জুন-ঘনিষ্ঠদের দাবি, তাঁরা সেই সব সামগ্রীরই কারবার করেন, যাতে জিএসটি লাগে না। ফলে রাজ্যের এই তল্লাশি অভিযানের আসল উদ্দেশ্য বিরোধী নেতাকে হেনস্থা
করা বলেই তাঁদের অভিযোগ।

 

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here