সব্যসাচী দলের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়: ফিরহাদ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 9, 2019 | 9:28 am

সব্যসাচী দলের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়, যাওয়ার হলে চলে যাক: ফিরহাদ

কলকাতা: সব্যসাচী দলের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়, যাওয়ার হলে চলে যাক। সোমবার এই মন্তব্য করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। গতমাসেই তৃণমূলের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকের পর নজরুল মঞ্চ থেকে বের হওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব্যসাচী দত্তকে সরাসরিই বলেছিলেন, ‘তুই তৃণমূলে আছিস কেন, বিজেপিতে চলে যা’। সোমবার বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তকে ফোন করে সেই কথাটাই বলেন পুরমন্ত্রী
ফিরহাদ হাকিম।

জানা গিয়েছে, সোমবার সব্যসাচীর সঙ্গে কথা বলেন পুরমন্ত্রী। তাঁকে বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলেন। সব্যসাচী দত্ত একান্তই যদি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজি না হন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে ভোটাভুটি চাওয়া হবে। সোমবার রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা তৃণমূলের তরফে কাউন্সিলরদের নেতা ফিরহাদ বলেন, ‘সব্যসাচী বেইমানি করেছে, মীরজাফর, শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কাছে আর্জি করব, যাতে কঠোর পদক্ষেপ করা হয় ওর বিরুদ্ধে’।

রবিবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে ৩৬ জন কাউন্সিলর সব্যসাচীর বিরুদ্ধে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। সেই বৈঠকে সব্যসাচী দত্তকে ডাকা হয়নি। তা ছাড়া বৈঠকের পর ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, দল বিরোধী কাজের জন্য সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। সেই সঙ্গে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, বিধাননগর পুরসভার কাজও আপাতত ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায় দেখবেন। কিন্তু তার পর রাতে আবার দেখা যায়, সল্টলেকের একটি সুইমিং ক্লাবে মুকুল রায়ের সঙ্গে নৈশভোজ করছেন সব্যসাচী। সল্টলেকের ওই ক্লাবে একসঙ্গে বসে পরোটা, ডাল, ফিশ কাটলেট খান মুকুল রায় এবং সব্যসাচী দত্ত।

এ প্রসঙ্গে সোমবার ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘যে দল ভাঙছে, সব্যসাচী তাঁর সঙ্গে বসছে। যাওয়ার হলে চলে যাক। দু’নৌকায় পা দিয়ে চলা যায় না। সব্যসাচীর উচিৎ ছিল তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়ে এ সব করা’। ফিরহাদ হাকিম এদিন আরও বলেন, ‘ও যা করছে, দলের পক্ষে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। দলে থেকে কেউ এটা করবে, তা সহ্য করা যায় না। তাই শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কাছে আর্জি করব, যাতে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়। যাওয়ার হলে চলে যাও, দু’নৌকায় পা রেখে তো ডুবে যাবে, কীসের জন্য অপেক্ষা করছ? অনেকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। খুবই হতাশ আমি। যদি ওর শুভবুদ্ধি থাকে, সম্মান থাকলে দল ছেড়ে দিক’। তিনি আরও বলেন, ‘ও আমার ভাইয়ের মতো, ওকে খুব স্নেহ করতাম। কিন্তু ও যা করছে তাতে আমি ব্যথিত ও অপমানিত’।

পুরমন্ত্রীর এ কথা নিয়ে আবার সব্যসাচীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে এ সব তো কেউ কিছু বলেনি’। তিনি কী করবেন জানতে চাইলে বিধাননগরের মেয়র বলেন, ‘কী আবার করব? নিজের কাজ করে যাব’। তিনি বলেন, সুইমিং পুল ক্লাবে তিনি মুকুল রায়কে নেমন্তন্ন করেননি। ক্লাবের সদস্যরা তাঁকে ডেকেছিলেন। ক্লাবে যে কেউ আসতেই পারে। তা ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শিখিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গেও সৌজন্য বজায় রাখতে। ফলে কোনও দল বিরোধী কাজ তিনি করেননি। রবিবার রাতে সল্টলেকে সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে বৈঠকের আগেই মুকুল রায় দাবি করেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে সব্যসাচী দত্তের ভূমিকা আমাদের পক্ষে ভাল ছিল’। মুকুল রায়ের সঙ্গে সব্যসাচী দত্তের বৈঠক ‘সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘কীসের সৌজন্য। যে আমার শত্রু, তাদের সঙ্গে কীসের সৌজন্য, যে আমাদের কর্মীদের মারছে, তাদের সঙ্গে কীসের সৌজন্য। মানুষ ভাল চোখে দেখে না, মানুষ মীরজাফর বলবে’। রবিবারের বৈঠক নিয়ে মুকুল রায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সব্যসাচীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তাই দাদা হিসাবে পরামর্শ দিতে গিয়েছিলেন তিনি।

যদিও রবিবার রাতের বৈঠক শেষে মুকুল রায় দাবি করেন, ‘সব্যসাচীর বিজেপিতে যোগদাননিয়ে কোনও কথা হয়নি’। ঘটনাচক্রে পুরমন্ত্রী হিসাবে সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমই বেশি যোগাযোগ রাখতেন। দু’জনের ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভাল ছিল। এখন সেই ফিরহাদকেই সব্যসাচী সরানোর দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে পুরমন্ত্রী নিজেই গোটা ঘটনা টানিয়ে চাপে রয়েছেন। সেই চাপ বলতে গেলে দু’রকম। এতো কিছুর পরেও সব্যসাচী নিজে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজি নন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে সরাতে হবে। কিন্তু দ্বিতীয় সমস্যা হল, অনাস্থা প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে এখনও ষোলো আনা আত্মবিশ্বাস নেই তৃণমূলে। আশঙ্কা রয়েছে, ক্রস ভোটিংয়ে দলই না হেরে যায়।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *