হাত আটকে দরজায়, ছুটল মেট্রো

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 14, 2019 | 4:03 am

পার্কস্ট্রীটে  মেট্রোর দরজায় হাত আটকে থাকা অবস্থায় যাত্রীকে নিয়ে ছুটল ট্রেন, মৃত্যু যাত্রীর

কলকাতা: ফের মৃত্যুর ঘটনা মেট্রোতে।  তবে এবার আত্মহত্যা নয়।  মেট্রোর দরজায় হাত আটকে থাকা অবস্থায় যাত্রীকে নিয়ে ছুটল ট্রেন।  এর জেরেই মৃত্যু হল ওই যাত্রীর। পার্কস্ট্রিট মেট্রো স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। কবি সুভাষ গামী ট্রেনে ৬.৪০ মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম সজল কাঞ্জিলাল। কসবার বাসিন্দা তিনি।

শনিবার সন্ধ্যে বেলা পার্কস্ট্রিট স্টেশনে ট্রেনের দরজা বন্ধ হওয়ার সময় ওই এসি রেকের তিন নম্বর কামরায় আটকে যায় ওই ব্যক্তির হাত। এই অবস্থায় তাঁকে টানতে টানতে মেট্রো ছুটে চলে ময়দান স্টেশনের দিকে।এই অবস্থাতেই সুড়ঙ্গে মৃত্যু হল যাত্রীর। কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে নজিরবিহীন এই দুর্ঘটনার পরে কবি সুভাষগামী ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফের প্রশ্নের মুখে পড়ে মেট্রোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

যাত্রীর দেহের কোনও অংশ আটকে গেলে খুলে যায় স্বয়ংক্রিয় দরজা। কিন্তু শনিবার কেন মেট্রোর কামরার সেন্সর কাজ করল না তা নিয়ে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। এর পিছনে কার গাফিলতি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এত বড় ঘটনা নজর এড়িয়ে গেল সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তাছাড়া ট্রেনের মুখের দিকে সবসময় আরপিএফ জওয়ানরা মোতায়েন থাকে। তাহলে এদিন কেন সেই সময় আরপিএফরা ছিল না তাই নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টেশনে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকা সত্ত্বেও ট্রেনটি ওই যাত্রীকে নিয়ে ছুটে যায়। এমনকি ট্রেনের ভিতরে কাজ করেনি আপত্কালীন ব্যবস্থা কাজ করেনি।

এই ঘটনার পর মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে কবি সুভাষগামী একটি মেট্রোতে দরজায় আটকে যায় এক যাত্রীর হাত। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ওই যাত্রীকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিতিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।”

এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জানান, “মেট্রোর এই ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। কলকাতার মেট্রো সব থেকে অবহেলিত। মেট্রোর কোনও রক্ষনাবেক্ষণ হয়না।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা মেট্রোর জন্য আলাদা জোন করতে চেয়েছিলা। আলাদা রেক আনতাম। খেয়াল রাখতাম।” নিহতের পরিবার আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁর পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বারংবার মেট্রোয় দুর্ঘটনার পর কার্যত প্রশ্নের মুখে পরেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আতঙ্কে যাত্রীরা| তদন্তের অজুহাতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ দায় এরাচ্ছে কিনা টা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *