Lead Newsকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

গণপিটুনি প্রতিরোধ ও তপশিলি জাতি, উপজাতি কমিশন বিল নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক রাজ্যপালের

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: এ বার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। রাজ্য সরকারের সঙ্গে যে দুটি বিল নিয়ে রাজ্যপালের সংঘাত চরমে উঠেছিল সেই গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল এবং তপশিলি জাতি, উপজাতি কমিশন বিলের ভবিষ্যৎ ঠিক করতেই এই সর্বদলীয় বৈঠক। আগামী ১৭ জানুয়ারি দুপুর বারোটায় রাজভবনে এই বৈঠক ডেকেছেন রাজ্যপাল।

বৈঠকে কারা ডাক পাচ্ছেন? রাজ্যপাল টুইট করে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী, বিজেপি পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগগা, আর এস পি’র বিশ্বনাথ চৌধুরী, ফরওয়ার্ড ব্লকের আলি ইমরান রামিজ, সিপিআইয়ের অশোক দিন্দা এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার রোহিত শর্মাকে ডাকা হচ্ছে বৈঠকে। অর্থ্যাৎ বিধানসভায় প্রতিনিধি আছে এমন দলের প্রতিনিধিরাই ডাক পেয়েছেন বৈঠকে।

আরও পড়ুন: অপমানিত রাজ্যপাল, আচার্য জগদীপ ধনখড়ের বৈঠকে সাড়া দিলেন না উপাচার্যরা

হঠাৎ করে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার কারণ হিসেবে রাজভবনের যুক্তি, তপশিলি জাতি এবং উপজাতি কমিশন বিল -২০১৯ এ প্রাথমিক সম্মতি চেয়ে তা রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল। এই বিল সংক্রান্ত নানা তথ্য রাজ্য সরকারের কাছে চাওয়া সত্বেও তা মেলেনি। রাজ্যপাল উল্লেখ করেছেন, তপশিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকরা বিল নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি। এমনকী, তাঁদের কে বলা হয় যে জাতীয় তপশিলি জাতি, উপজাতি কমিশনের সঙ্গে নয়া বিলের অনেক ক্ষেত্রেই সাযুয্য রয়েছে, তাহলে রাজ্যে এই কমিশনের কি প্রয়োজন? তার উত্তরও দিতে পারেননি অধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্যসচিব রাজীবা সিনহাকে জানিয়েও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: সর্বদলীয় বৈঠক শেষে কেন্দ্রকে আক্রমণ সনিয়া-রাহুলের

তপশিলি জাতি, উপজাতি কমিশন বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ অংশে বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি পালনে দায়ব্ধতার জন্যই এই বিল আনা হয়েছে। রাজ্যপালের প্রশ্ন, কোন মঞ্চ থেকে কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং কে দায়বদ্ধ -তা সুস্পষ্ট নয়। এর ব্যাখ্যাও মেলেনি। অন্যদিকে, গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল টি বিধানসভায় গত ৩০ আগষ্ট পাশ হয়েছে। তাতেও রাজ্যপাল সম্মতি দেননি কারণ এই পাশ হওয়া বিল নিয়ে রাজভবনে অভিযোগ জানিয়েছেন আব্দুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তী। দেখা গিয়েছে, সম্মতি দেওয়া বিল এবং পাশ হওয়া বিলের মধ্যে ফারাক আছে। এই দুটি বিল নিয়ে বিতর্কে ইতি টানতেই এই সর্বদলীয় বৈঠক।

তপশিলি জাতি, উপজাতি কমিশন বিল আটকে রাখার অভিযোগে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়করা। কিন্তু, রাজ্যপালের দাবি, এই বিল দুটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তা বিবেচনা করা হয়েছে। জনমানসে এই নিয়ে বিভ্রান্তি কাটানোও দরকার। তাই সর্বদলীয় বৈঠক। এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠকে অংশ নেবেন কি না। সেদিকেই নজর সবমহলের।

@এস. এ. হামিদ

(Visited 15 times, 1 visits today)

Related Articles

Back to top button
Close
Close