দীর্ঘদিন নিয়োগের অভাবে ধুঁকছে সরকারি মাদ্রাসাগুলি

মোকতার হোসেন মন্ডল, কলকাতা:   নেই ঘন্টা বাজানোর লোকও, দীর্ঘদিন নিয়োগের অভাবে ধুঁকছে রাজ্যের সরকারি মাদ্রাসাগুলি। যদিও মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বলছে, আইনি জটিলতায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ও ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে বিপক্ষে মামলা চলছে। বেশ কিছু মাদ্রাসা সংবিধানের ৩০ এ ধারা মেনে খ্রিস্টান পরিচালিত বা রামকৃষ্ণ মিশনের মতো কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা চাইছে। আবার অনেকে বলছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই নিয়োগ দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলা চলছে। এরই মধ্যে কোর্টের নির্দেশ মেনে কিছু শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। কিন্তু এখনো রাজ্যের হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিলের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার আসন খালি। এমন কিছু স্কুল আছে যেখানে ক্লার্ক নেই। ঘন্টা বাজানোর লোক নেই। মিডডে মিলের টাকা থেকে কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করেছে কমিটি। একদিকে শিক্ষকের অভাব অন্যদিকে কর্মীর অভাবে ধুঁকছে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি। এই নিয়ে আন্দোলন কম হয়নি। কিন্তু মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ এই প্রতিবেদককে বলেন,’কোর্টে মামলা চললে কিভাবে নিয়োগ দেব।’ কিন্তু কোর্টতো নিয়োগ দিতে নিষেধ করেনি। তাহলে কমিশন নিয়োগ দিচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দেননি চেয়ারম্যান।

[আরও পড়ুন: জলাভূমি বুজিয়ে নির্মাণ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের]

কিন্তু কমিটি আর কমিশনের দ্বন্দ্বে শেষ হয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসাগুলি। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড: সেখ আবু তাহের কমরুদ্দিন বলেন, হ্যাঁ সমস্যাতো হচ্ছে। কিন্তু মামলা চলছে তাই নিয়োগ হচ্ছে না।

তবে শুধু কি মামলার কারণে নিয়োগ বন্ধ? সেই বাম জামানা থেকে বহু মাদ্রাসায় ক্লার্ক নিয়োগ হয়নি। তৃণমূল সরকার আসার পরেও অবস্থার বদল হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী তথা সংখ্যালঘু মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেউ এ বিষয়ে নীরব থাকতে দেখা গেছে। এক শিক্ষক বলছিলেন, সরকার চাইলেই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। প্রয়োজনে সব পক্ষকে নিয়ে বসতে হবে। যেকোন ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। দরকারে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। মাদ্রাসাগুলিতে সাধারণ বদলি নেই। বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত।

(shreyashree)

(Visited 12 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here