গ্লোবাল ওয়ার্মিং চা শিল্পে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে : ত্রিপুরার শিল্পপতি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 7, 2019 | 10:09 am

আগরতলা: গ্লোবাল ওয়ার্মিং চা শিল্পকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে চায়ের উৎপাদন যেমন কমছে তেমনি গুণগত মানেও প্রভাব পড়ছে। এই অভিমত ত্রিপুরার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্যতম ব্যবসায়ী ও চা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের মালিক শান্তিব্রত চক্রবর্তীর। তিনি বলেন, বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ গ্লোবাল ওয়ার্মিং। এর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে চা শিল্পও দারুণভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
শান্তিব্রত চক্রবর্তী বলেন, চা পাতা উৎপাদনের জন্য তাপমাত্রা একটি বড় ভূমিকা পালন করে। ত্রিপুরা-সহ আশপাশের রাজ্য ও দেশে গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা যদি ১৮ ডিগ্রি থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট থাকে তা-হলে তা চা পাতার ফলনের জন্য সর্বোত্তম। শুধু চা গাছই নয়, এই তাপমাত্রায় যে কোনও গাছের সালোক সংশ্লেষণ খুব ভাল হয়। তাপমাত্রার পারদ ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেটের উপরে চলে গেলে ভাল সালোকসংশ্লেষণ হয় না। বেশি উষ্ণতায় পাতার নমনিয়তা বজায় রাখার জন্য পাতা দিয়ে গাছ থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। এর ফলে চা পাতার নমনিয়তা থাকে না, পাতা শক্ত হয়ে যায়, পাতার স্বাভাবিক গ্রোথও কমে যায়, পাতার রঙের উপরও প্রভাব পড়ে। এমনি চাপাতার রং উজ্জ্বল সবুজ। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে তা কালচে হয়ে যায়। তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে গেলে চা বাগানে যে ছায়ার গাছ রয়েছে তাতে কোনও কাজ হয় না।
তিনি জানান, এ-বছর ত্রিপুরায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। এর জেরে কাঁচা পাতার ফলন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম হয়েছে। ফলন কম হওয়ার মানে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। এর অর্থ হচ্ছে চায়ের দাম বাড়ছে। এই সমস্যা শুধু ত্রিপুরার নয়, গোটা বিশ্বের। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হচ্ছে গোটা বিশ্ববাসীকে কার্বণ নিস্বরণের উপর এখনই রাশ টানতে হবে। আর তা না হলে শুধু চা শিল্প নয়, গোটা বিশ্বকে ঠেলে দেওয়া হবে ধ্বংসের দিকে।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট