গিলগিট-বালতিস্তানকে মুক্ত করে লাদাখের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: সেরিং

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 9, 2019 | 8:05 am

রক্তিম দাশ, কলকাতা: সংসদে ৩৫-এ ও ৩৭০ ধারা বাতিল করে এবং জম্মু ও কাশ্মিরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার পরই এবার পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বালতিস্তানকে ভারতের লাদাখের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি উঠল। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলটিকে জম্মু ও কাশ্মীরের অংশে পরিণত করার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন গিলগিট-বালতিস্তানের জনগণ। আমেরিকার গিলগিট-বালতিস্তান স্টাডিজের ইনস্টিটিউট ডিরেক্টর সেনে এইচ সেরিং এই দাবি তুলে বলেছেন,‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন যে পক ও আকসাই চিন ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমরা বিশ্বাস করি গিলগিট-বালতিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমরা চাই লাদাখের সম্প্রসারণ করে গিলগিট-বালতিস্তানকে যুক্ত করা হোক। আমরা ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে আমাদের অধিকার চাইছি।’

এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে সেরিং বলেন,‘আমাদের অঞ্চলের প্রতিনিধি ভারতের রাজনৈতিকদলগুলির মধ্যে থাকা দরকার। কেন্দ্র শাসিত লাদাখের সংরক্ষিত আসনগুলিতে গিলগিট-বালতিস্তান প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। শুধু তাই নয় এই অঞ্চলের জন্য রাজ্যসভা ও লোকসভায় আসন থাকতে হবে।’

সেনে এইচ সেরিং আরও বলেন,‘পাকিস্তান চিনের সাহায্য নিয়ে গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের জনবিন্যাসের পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এর ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিন এখানে অর্থনৈতিক করিডোর করার মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে। জনবিন্যাসের পরিবর্তন করে আমাদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা করছে। সরকারের সাম্প্রতিক আদেশে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই আমাদের জমির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তিব্বতের মতো আমাদের পরিনিতি হতে পারে।’

গিলগিট-বালতিস্তান ভারতের অংশ দাবি করে সেরিং বলেন,‘সমস্ত দলিল প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলটি ভারতের একটি অঙ্গ ছিল। একে নিয়ন্ত্রণ করার পাকিস্তানের কোনও আইনগত অধিকার নেই। পাকিস্তান এই অঞ্চলে অশান্তির জন্য ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে, গিলগিটি-বালতিস্তানের দখল রাখতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ব্যবহার করছে। গিলগিট-বালতিস্তানের স্বার্থে ভারতের সাথে একীকরণ করা দরকার। আমাদের ভারত এবং আন্তর্জাতিক মহলের সাথে সেতু তৈরি করা দরকার। আমাদের ভারতের সাথে একীকরণ করতে হবে এবং লাদাখের অংশ হতে হবে।’

ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেরিং বলেন, ‘পাক সরকারের আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের উপর অত্যাচারের জন্য পাক সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সত্যিই মারাত্মক। কারণ গিলগিট-বালতিস্তানে কী ঘটছে সে সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহল সচেতন নয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী স্থানীয় মেয়েদের ধর্ষণ করছে।’

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট