কোটি কোটি টাকা তছরুপ, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত-কর্মী

কোটি কোটি টাকা তছরুপের দায় অভিযুক্ত পঞ্চায়েত-কর্মী ফরার, গ্রেফতারের দাবিতে পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করলো বিজেপি

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: এফআইআর দায়ের হবার পর পেরিয়ে গেছে পাঁচ মাস। তার পরেও গ্রেফতার করা হয়নি ১০০ দিনের কাজে কোটি কোটি টাকা তছরুপের ঘটনায় অভিযুক্ত পঞ্চায়েত কর্মী সুকান্ত পাল ওরফে ফুলকুমারকে। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ২ পঞ্চায়েতে ভিএলই পদে কর্মরত থাকা ফুলকুমারকে গ্রেফতারের দাবিতে এবার আন্দোলনে নামলো বিজেপি।

বুধবার বহু বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা তৃণমূল পরিচালিত জামালপুর ২ পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। অবিলম্বে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত কর্মীকে গ্রেফতার সহ বেশ কয়েকদফা দাবি সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব এদিন পঞ্চায়েতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। বিক্ষোভ ঘিরে যাতে কোন গোলযোগ অশান্তির না ঘটে তার জন্য পঞ্চায়েত অফিস চত্ত্বরে মোতায়েন রাখা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।

জামালপুর থানার নিকটবর্তি কাঁশরা গ্রামে বাড়ি সুকান্ত পাল ও ফুলকুমারের। তিনি পঞ্চায়েতের ডেটা এন্ট্রি অপারেটার অর্থাৎ ভিএলই পদে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে চুক্তি ভিত্তিতে ফুলকুমার সেই কাজে করছিলেন। জামালপুর ২ পঞ্চায়েতে তিনি সবথেকে বেশিদন কাজ করেছেন। পরে ট্রান্সফার নিয়ে তিনি যান জামালপুরের আঝাপুর পঞ্চায়েতে। তছপুর ধরাপড়ার সময়কালে তিনি জামালপুরের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে জামালপুর পঞ্চায়েতে অডিট চলাকালীন ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা আর্থিক তছরুপ ধরাপড়ে। একই সময়ে আঝাপুর পঞ্চায়েতেও আর্থিক অনিয়ম ধরাপড়ে। এরপর ২১ জানুয়ারি ফুলকুমার গা ঢাকা দেয়। জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের একজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় গত ৬ ফেব্রুয়ারী জামালপুর থানায় সুকান্ত পালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। একই সময়কালে আঝাপুর পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক ঘোষ ও জামালপুর থানায় ফুলকুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্তে নামলেও আজও পুলিশ ফুলকুমারকে গ্রেফতার করতে পারেনি। জামালপুর থানার পুলিশের এক কর্তা বলেন, তারা নানা ভাবে ফুলকুমারের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামালপুর ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, মাসিক সাড়ে ৭ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন ফুলকুমার। ১০০ দিনের কাজের বিভিন্ন প্রকল্পে সে আর্থ তছরুপ করেছে। বিগত দু-তিন বছরে হিসাব খতিয়ে দেখে প্রশাসনের কর্তিরা নিশ্চিৎ হন তছরুপের পরিমান বেশ কয়েক কোটি টাকা। সরকারী অর্থ তছরুপ করে ফুলকুমার প্রাসদোপম অট্টালিকা, লক্ষ লক্ষ টাকার সোনার গহনা , গাড়ি ও আসবাবপত্র কিনেছে বলে ব্লক প্রশাসনের কর্তারা তদন্ত চালিয়ে জানতে পারেন। এতবড় তছরুপ কাণ্ডে জড়িত ফুলকুমার আজও কিভাবে পালিয়ে বেড়াতে সক্ষম হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

জামালপুর নিবাসী বিজেপির জেলা সম্পাদক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তি বলেন,  কোটি কোটি টাকা আর্থিক তছরুপের ঘটনা ফুলকুমার একা ঘটিয়েছে এমনটা তারা মনে করেন না। রামকৃষ্ণর বক্তব্য, হয়তো পুলিশ তদন্ত চালিয়ে দেখেছে তৃণমূলের নেতা,  জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের একাংশ এই তছরুপের ঘটনায় জড়িত রয়েছে। ফুলকুমার গ্রেফতার হলে তাদের মুখোশ খুলেযাবে। সেকারণে তৃণমূল নেতাদের চাপেই হয়তো পুলিশ ফুলকুমারকে গ্রেফতার করছে না। রামকৃষ্ণ বাবু হুঁশিয়ারি দেন,  এই আর্থিক তছরুপের বিষয়টি নিয়ে বিজেপি আরোবড় আন্দোলনে নামবে।

(Visited 14 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here