ঘরের খাবার খেয়েই শরীর বানানো উচিৎ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

অবাস্তব আকাঙ্খা নিয়ে ব্যায়াম করবেন না৷ মডেল বা চিত্রতারকাদের ছিপছিপে সুঠাম শরীরের মূলে এমন অনেক কিছুর হাত থাকে যা দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট ক্ষতিকর৷ জলের মতো পয়সাও খরচ হয় ও রকম শরীর বানাতে৷ লিমিটের মধ্যে থাকুন৷ সতর্ক থাকুন খাবারের ব্যাপারেও৷

শরীরের ধাত ও আর্থিক সামর্থ অনুযায়ী লক্ষ্য ঠিক করুন৷ তার আগে চেকআপ করিয়ে নিন৷ ছোটখাটো জিমে অনেক সময় গাইড করার মতো কেউ থাকেন না৷ আবার বড় জিমে যাওয়ার বা পার্সোনাল ট্রেনার রাখার সামর্থও থাকে না সবার৷ জানালেন অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ কুণাল সেনগুপ্ত৷

শরীর বানানো জন্য এগুলি করা উচিৎ-

১)সপ্তাহে ৩–৪ দিন বা শরীরে কুলোলে ৫–৬ দিন ২০–৪০ মিনিট ওজন নিয়ে ব্যায়াম করুন৷ যেমন, স্কোয়াট, লেগ এক্সটেনশন বা আয়রন শ্যু এক্সারসাইজ, লেগ কার্ল, বারবেল বা ডাম্বেল ওয়েট লিফটিং, বেঞ্চপ্রেস ইত্যাদি৷ বুকডন, লেগ রাইজ, ক্রাঞ্চেস মারুন৷

২)সকালে উঠে পার্কে বা মাঠে হাঁটুন বা দৌড়োন৷ হাঁটুর অবস্থা বুঝে ২০–৪০ মিনিট৷ বদ্ধ ঘরে ট্রেডমিলে হাঁটার চেয়ে ঘাস–মাটির উপর হাঁটা শতগুণে ভাল৷ হাঁটুর ক্ষতি কম হয়৷ সকালে দূষণ কম থাকে বলে ফুসফুসের আরাম হয়৷ ভোরের রোদ গায়ে লাগলে ভিটামিন ডি পায় শরীর৷ হাড়–পেশি–মন–মেজাজ, সব ভাল থাকে৷ ব্যথা–বেদনা কম হয়৷ হাঁটতে ভাল না লাগলে সাইকেল চালান বা সাঁতার কাটুন। একটানা বসে থাকবেন না৷ মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান৷একটু হাঁটুন৷ দিনভর সচল থাকার চেষ্টা করুন৷

৩)কীভাবে কোন ব্যায়াম করবেন বা আদৌ করবেন কি না, কতবার করে করবেন, ওজন তুলবেন নাকি বডি ওয়েট ট্রেনিং করবেন, কতটা ওজন তুলবেন, শরীরের প্রতিটি অংশের ব্যায়াম আলাদা করে করবেন না একদিন শরীরের উপরের অংশ ও একদিন নীচের অংশের ট্রেনিং করবেন, সে সব ভাল করে জেনে–বুঝে নিন৷ নাহলে কিন্তু চোট লাগবে৷

৪)হাঁটু–কোমর হাটলে ঠিক থাকে।স্কিপিং,বার্পিস, রক ক্লাইম্বিং, জাম্পিং জ্যাক জাতীয় কার্ডিও ব্যায়াম করতে পারেন৷ এতে সারা শরীরের ব্যায়াম হয়৷ চর্বি ও ওজন যেমন কমে, পেশিও মজবুত হয়৷

৫)মূল ব্যায়ামের পর ১০–১৫ মিনিট যোগা ও ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন৷ ইচ্ছে হলে বিকেলেও করতে পারেন৷ শরীরের নমনীয়তা বাড়বে৷ মন–মেজাজ ভাল থাকবে৷
সুঠাম শরীরের জন্য কম কার্বোহাইড্রেট ও বেশি প্রোটিন দরকার ঠিকই৷কিন্তু বুঝে করতে না পারলে ঘোর বিপদ৷তা ছাড়া কার্বোহাইড্রেট কম খেলে সে ভাবে তৃপ্তি হয় না বলে ভুলভাল খাবারের ইচ্ছে বাড়ে, ডায়েটে টিকে থাকা মুশকিল হয়৷ সঙ্গে যদি আবার প্রচুর প্রোটিন খেতে শুরু করেন, হাই কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি
লিভার, কিডনির সমস্যা ও হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে৷ সাপলিমেন্টের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তো কথাই নেই৷ কাজেই সুন্দর শরীরের পাশাপাশি সুন্দর স্বাস্থ্য যদি চান, পুষ্টিবিদের পরামর্শমতো লো–ক্যালোরির প্রোটিনসমৃদ্ধ ঘরোয়া সুষম খাবার খান, যে কোনও ধরনের প্রসেস্ড খাবার খাওয়া কমান৷ মাটির কাছাকাছি থাকুন৷

পুষ্টিবিদ বিজয়া আগরওয়াল জানিয়েছেন যে মোটামুটি শুয়ে–বসে থাকা মানুষেরও দিনে ১৫০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট লাগে৷ ব্যায়াম করলে আরও বেশি দরকার হয়৷ না হলে এনার্জিতে টান পড়ে৷ যাঁদের ফিটনেস ওই মাপে নেই, অন্যের দেখাদেখি শুরু করেছেন, তাঁদের অবস্থা আরও করুণ৷ বাড়াবাড়ি ব্যায়ামের ফলে ব্যথা–বেদনা তো মামুলি ব্যাপার, হাড়গোড় পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে৷ ছিঁড়তে পারে লিগামেন্ট–টেন্ডন৷ শিরদাঁড়ায় চোট লেগে সারা জীবনের জন্য ব্যায়াম বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু তলে তলে হাড় ক্ষয়ে গিয়ে কম বয়সে জটিল আর্থ্রাইটিসের সূত্রপাত
হয়৷কারন শরীরকে মাপে আনতে গেলে যে ধরনের হাই ইনটেনসিটি ব্যায়াম করতে হয় তা উন্নত মানের জিম ছাড়া সম্ভব নয়৷ আর সেই ব্যায়ামে পুরো শরীর, বিশেষ করে হাড়,পেশি,টেন্ডনের উপর এমনিতেই এত চাপ পড়ে যে কীভাবে কোন ব্যায়াম করতে হয় সে হিসেবে সামান্য ভুলচুক হলেই বিপদ৷

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *