ইদের প্রস্তুতি তুঙ্গে মুর্শিদাবাদে, বিড়ি বেঁধে বাড়ির কাজে ব্যস্ত মহিলারাও

সামিম আক্তার, মুর্শিদাবাদ: রাত পোহালেই মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইদ-উল-আজহা। ইদ উপলক্ষে সেজে উঠেছে গোটা মুর্শিদাবাদ জেলা। বাড়ি বাড়ি চলছে ল্যাচ্চা সামাই তৈরির কাজ। ভিড় জমেছে দোকানগুলোতে। কেরল- মুম্বই কিংবা চেন্নাই-কলকাতা, ইদের আনন্দে সামিল হতে ইতিমধ্যেই কাজ সেরে বাড়ি ফিরেছেন জেলার রাজমিস্ত্রিরা। কাজ সেরে বাড়ি ফিরেই শিশুদের নিয়ে শেষ মুহূর্তের দোকানগুলোতে কেনাকাটায় ভিড় জমিয়েছেন তারা। ইদের ঠিক চার দিন আগে বিড়ি বাঁধা সম্পন্ন করে বাড়ির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মহিলারাও। মনোহারি দোকানগুলোতেও মহিলাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। রাস্তাঘাট কিংবা ইদগাহ গুলো আলোর বিচ্ছুরণে সেজে উঠেছে।

উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের বেশিরভাগ মানুষই বিড়ি শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাড়ির মহিলারা বিড়ি বাঁধার কাজে ব্যস্ত থাকলেও সংসার চালাতে পুরুষদের ছুটে যেতে হয় কলকাতা, দিল্লী, উড়িষ্যা, কেরল কিংবা চেন্নাই। বাড়ি ফেরেন ইদ কিংবা পরবের সময়। মাস দুয়েক আগেই রোজা ইদ সম্পন্ন করে কুরবানী ইদের আনন্দে সামিল হতে কাজে ছুটে গিয়েছিলেন জেলার রাজমিস্ত্রিরা। ইদের ঠিক দুদিন আগেই ট্রেন কিংবা বাসে হুড়োহুড়ি করেই বাড়ি ফিরেছেন তারা। ইদের একদিন আগেও অব্যাহত বাড়ি ফেরার পালা। ইদের ঠিক আগের মুহূর্তেও রাজমিস্ত্রিদের আগমনে যেন আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের মাটি।

রঘুনাথগঞ্জ বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ী হাসিবুল ইসলাম জানান, অন্যান্য ইদের সময়ের আগেই বাজার জমলেও এবারের ইদে মাত্র দুদিন আগেই জমে উঠেছে বাজার। শিশুদের প্যান্ট শার্ট কিংবা বড়দের পাজামা পাঞ্জাবীর চাহিদা তুঙ্গে। একই মত ডোমকলের ব্যবসায়ী মোরসালিম শেখ, কান্দির অভিজিৎ দাস, ফারাক্কার আবুল কালাম আজাদদের। অন্যদিকে শনিবারই কেরালা থেকে রাজমিস্ত্রি কাজ সেরে বাড়ি ফিরেছেন সামসেরগঞ্জের মানিরুল ইসলাম, নাঈম আক্তার, ওয়াসিম আকরামরা। তারা জানান, সারাবছর রাজমিস্ত্রির কাজ করি। বছরে দুবার ইদের আনন্দে সামিল হতেই কাজ সেরে বাড়ি ফিরে আসি। পরিবারের লোকের সাথে ইদের আনন্দে সামিল হতে পারার আনন্দই আলাদা।

(Visited 6 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here