এনআরসি হতে দেব না, আমরা পাহারাদার রয়েছি: মুখ্যমন্ত্রী

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ‘ এনআরসি হতে দেব না। আমরা শান্তি চাই।  শান্তির বাংলায় কোনও ভাগাভাগি হবে না। এখান থেকে কাউকে যেতে দেব না। আমরা পাহাড়াদার রয়েছি।’ দীর্ঘ ছ’ মাস পর উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সোমবার শিলিগুড়িতে পুলিশ কমিশনারেটের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটের পর মুখ্যমন্ত্রীর এটাই প্রথম শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গ সফর।  তাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে দলের ভরাডুবি ও বিজেপি-র উত্থানের জন্য এদিন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকার তথা গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হবেন।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি ছাড়া অন্য কোনও রাজনৈতিক বিষয় তাঁর বক্তব্যে টেনে আনেননি। একটি বারের জন্যও বিজেপি-র কথা বলেননি। উল্টে উত্তরবঙ্গবাসীর মন জয়ের চেষ্টায় বছর ভর উৎসব, মেলায় মেতে থাকার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের  সার্কিট বেঞ্চ, উত্তরকন্যা, গাজলডোবা, রাজবংশী ভাসাকে স্বীকৃতি ও আদিবাসী উন্নয়ন বোর্ড তৈরির কথা উল্লেখ করে বলেন,’ নাসা থেকে ভাষা, সবেতেই বাংলা এগিয়ে। উত্তরবঙ্গও পিছিয়ে নেই। আপনারা এগিয়ে যান, জোট বাঁধুন।’

[আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর মত কালীপুজোতেও মিলুক সরকারি অনুদান, কলকাতা পুলিশের বৈঠকে দাবি কমিটিগুলির]

পুজো, উৎসব ও মেলা নিয়েই এদিন বক্তব্যে বেশি সময় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি এনআরসি  নিয়ে বিরোধিতা করেন। বলেন,’ এখানে কোনো এনআরসি হবে না। সিটিজেন অ্যামেনডমেন্ট অ্যাক্টের নামে ছ’ বছর কাউকে বিদেশিও করা যাবে না।’ কিছুদিন আগে গ্রেটার কোচবিহার নেতা বংশীবদন বর্মন এনআরসি-র পক্ষে সওয়াল করে সমর্থনও জানিয়েছিলেন। এদিন মঞ্চে তিনিও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে উদ্দেশ্য করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ জায়গায় জায়গায়, জাতিতে জাতিতে ভুল বোঝানো হচ্ছে। কেউ ভুল বুঝবেন না, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। রাজ বংশী ভাষা,  কামতাপুরি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। আদিবাসী উন্নয়ন বোর্ড করেছি। সকলের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি দিয়েছি। সব মানুষকে এক করেছি। একতাই সব।’

এর বাইরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতে বক্তব্য না রাখায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারনা, এদিনের অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা মতো জন সমাগম হয়নি, আর যারা এসেছিলেন তাতের সামনে রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিজেপি বিরোধিতা করে কোনও লাভ হবে না বুঝেই হাতাশ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বীষ বক্তব্য রাখেন। আবার আর একটি অংশের ধারনা, উত্তরবঙ্গের মানুষ বিজেপি- কে মন থেকে গ্রহণ করে নিয়েছেন।  তাই এতদিন পরে এসেই বিজেপি বিরোধিতায় গিয়ে এখানকার মানুষের রাজরৈতিক আবেগে আঘাত করে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগটুকু হয়তো নষ্ট করতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়ির পুলিশ লাইনে এই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্টানের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা,  অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্ত্র নাথ ঘোষ, শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক  রাজ্য পুলিমের ডিজি বীরেন্দ্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিন উত্তরকন্যায় রাত্রিবাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকনকরে তিনি কার্শিয়াং চলে যাবেন। সেখানে বুধবার দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। ২৫ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

(shreyashree)

(Visited 26 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here