টাকা না থাকায় আটকে রয়েছে উন্নয়নের কাজ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 12, 2019 | 12:15 pm

অর্থবর্ষের বাজেটের টাকা এখনও না আসায় থমকে রয়েছে গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের কাজ

উত্তর দিনাজপুর: তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের বাজেটের টাকা এখনও না আসায় জেলা পরিষদ নতুন কোনও কাজ শুরু করতে পারছে না। এদিকে বিগত দিনের যে পরিমাণ টাকা পরিষদের হাতে ছিল তা সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে উন্নয়নের কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ খুবই সামান্য হবে। এই অবস্থায় জেলা পরিষদের হাতে তেমন কোনও অর্থ না থাকায় জেলার গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের কাজ থমকে আছে।

জেলা পরিষদের অধীনে থাকা ইসলামপুর বাংলো এবং হেমতাবাদ বাসস্ট্যান্ডের দোকানঘর লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিষদ নিয়েছে। অর্থের অপ্রতুলতায় ওসব রক্ষণাবেক্ষণ করতে সমস্যা হচ্ছে বলেই জেলা পরিষদ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা পূর্ণেন্দু দে বলেন, মাস কয়েক আগে আমরা জেলা পরিষদের বাজেট করি। ওই বাজেট বোর্ডের সদস্যদের দিয়ে অনুমোদন করিয়ে গ্রামোন্নয়ন দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখনও সেই বাজেটের টাকা জেলায় আসেনি। আমাদের হাতে আগের অর্থবর্ষের যে পরিমাণ টাকা ছিল তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে ধরা বরাদ্দ এলেই কাজ শুরু হবে। আমরা ইসলামপুর বাংলো সহ আরও কয়েকটি ঘর, দোকান লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা ফরওয়ার্ড ব্লকের সাহিদ সিদ্দিকি বলেন, জেলা পরিষদের নতুন বাজেটের টাকা এখনও আসেনি। ফলে নতুন কোনও কাজও হচ্ছে না। জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ সেকারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা চাই বাজেটের টাকা দ্রুত আসুক। এ নিয়ে বোর্ডের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদেরই রাজ্যে গিয়ে দরবার করতে হবে। জেলা পরিষদের তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পরিষদের বাজেট পাশ করে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সেই বাজেট গ্রহণ করে তা পাশ করা হলেও সেই খাতে এখনও কোনও টাকা আসেনি। এদিকে জেলা পরিষদের হাতে থাকা বিগত দিনের চার কোটি টাকা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে খরচের জন্য সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই টাকার অধিকাংশই রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যয় হবে। ১৭ জুন জেলা পরিষদের অর্থ স্থায়ী কমিটির কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে ঠিক হয়, হাতে থাকা চার কোটি টাকা কাজের নিরিখে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। সেই টাকা দিয়েই ওই সমস্ত সদস্যদের এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হবে। এতে একেক সদস্যের এলাকায় মাত্র সাড়ে ১৬ লক্ষ করে টাকা পড়বে। এতে খুবই সামান্য কাজ করা যাবে। নতুন করে কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। বিরোধীদের দাবি, এর ফলে জেলার উন্নয়ন থমকে যাচ্ছে। শাসক দল অবশ্য দাবি করেছে, এর আগে প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আগামীদিনে বাজেটে ধরা টাকা এলে আবার কাজ হবে বলে জানা গিয়েছে।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *