নেতাজির মৃত্যু রহস্য প্রকাশ করতে তদন্তের দাবী, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পাশে পেতে চান বসুপরিবার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 20, 2019 | 8:05 pm

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: নেতাজির মৃত্যু রহস্যের ‘সত্য’ প্রকাশের দাবী আগেই জানিয়েছেন প্রাক্তন সেনা প্রধান জি ডি বক্সি। এবার তা নিয়ে বিশেষ তদন্ত চাইলেন চন্দ্র সহ বসুপরিবার। ১৮ জুলাই, গত রবিবার নেতাজির অন্তর্ধান দিবস ছিল৷ সেদিন প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো অব ইন্ডিয়া(পিআইবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। যেখানে নেতাজির অন্তর্ধানের জায়গায় ‘মৃত্যু’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত ‘মৃত্যু’ শব্দকে ঘিরেই এবার সুর চড়ালেন বঙ্গ বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্র বসু ও প্রাক্তন তৃনমূল সাংসদ সুগত বসু৷ দুজনেই নেতাজি সুভাষ বসুর সম্পর্কে নাতি৷

কিছুদিন আগেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রথমে এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন৷ এবার তিনি পাশে পেলেন বসু পরিবাররে কিছু সদস্যকে৷ সেইসাথে, নেতাজির নিজের হাতে গড়া ফরোয়ার্ডব্লকও এই নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে৷ চন্দ্র ও সুগত বসু সহ ফরোয়ার্ডব্লক নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে বিশেষ তদন্ত (সিট)র দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে৷ তাঁরা এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেছেন৷ চন্দ্র বসু প্রশ্ন তোলেন- কীভাবে একটি সরকারি মাধ্যম নেতাজির মৃত্যু দিবস জানায়? অথচ এই নিয়ে এখনও কোনও চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কেন্দ্রীয় সরকার৷ তাহলে এমন আলটপকা বার্তা প্রকাশিত কীভাবে হয়?

প্রসঙ্গত বলা যায়, টোকিওর রেনকোজিতে থাকা নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে নিয়ে আসার দাবি বহুবার জানিয়েছেন নেতাজি কন্যা অনিতা বসু পাফ৷ তাঁর ইচ্ছা, তাঁর বাবার চিতাভস্ম এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ) এর গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া৷ কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর এই আবেদন জানালেও তাতে কর্ণপাত করছে না ভারত সরকার৷ তিনি অবশ্য বিশ্বাস করেন- তাঁর বাবা ১৯৪৫ সালে তাউহোক বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন৷ তাঁর কথায়, এই বিমান দুর্ঘটনায় সাংঘাতিক আহত হয়ে বাবা টোকিওতে মারা গিয়েছিলেন৷

তবে, চন্দ্র বসু আজ আশা প্রকাশ করে বলেন- ‘সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যু রহস্যের ওপর যবনিকা পতনের জন্য স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্যোগ নিতে হবে৷ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিলেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এই বিষয়ে যাবতীয় সহায়তা করবেন৷’ তাঁর কথায়, ‘রেনকোজির চিতাভস্মর ডিএনএ পরীক্ষা করলেই আসল সত্যি প্রকাশিত হবে৷’

উল্লেখ্য, গতকাল প্রাক্তন সেনা প্রধান  জি ডি বক্সি বলেছিলেন, ‘আমি জানি না সরকার নতুন কোনও পলিসি নিচ্ছে কিনা, না হলে পিআইবি হঠাৎ করে এতদিন পরে ‘১৮ জুলাই নেতাজির মৃত্যু দিন’ ঘোষণা করে দিল কি করে? মোদিজীর কাছে আমার একান্ত অনুরোধ বাজপেয়ী আমলে তৈরি মুখার্জী কমিশনের রিপোর্ট অবিলম্বে প্রকাশ করুন। তাহলেই সমস্ত সমস্যা, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটবে। এবং দেশের মানুষের ও মুখার্জি কমিশন রিপোর্ট জানার অধিকার আছে। কারণ আমরা এমন একজন মানুষকে নিয়ে কথা বলছি, যে দেশের জন্য ভারতবাসীদের জন্য নিজের সবটুকু উৎসর্গ করেছিলেন। এবং তিনিই প্রথম স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা ভারতবর্ষে উত্তোলিত করতে পেরেছিলেন। সেই অর্থে নেতাজি’ই আমাদের দেশের প্রথম সেনানায়ক এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীও বটে।”

গবেষক জেনারেল জি ডি বক্সি জানান, ”সরকারের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ- ৩৭০ ধারা বা তিন তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল যেমন সাহসের সাথে সংসদে পাস করানো হলো, ঠিক তেমন ভাবেই ইতিহাসের এই অজ্ঞাত অধ্যায়কেও নিয়ে আসা হোক আপামর ভারতবাসী সামনে। তবেই সঠিকভাবে সম্মান জানানো হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে এবং  দেশের জন্য তাঁর লড়াইকে। সেইসাথে সম্মান জানানো হবে- আজাদ হিন্দ ফৌজের সেইসব সেনানীকে, যারা দেশের জন্য আত্ম বলিদান দিয়েছিলেন।”

(SAH)

 

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট