কাটমানির টাকা ফেরানোর দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করল গ্রামবাসীরা

সুমন মণ্ডল, তমলুক (পূর্ব মেদিনীপুর): গ্রামের বেকার যুবকদের সরকারি চাকরী দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি খেয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থানার কাঁকটিয়া গ্রামের তৃণমূল নেতা রমেশচন্দ্র পড়িয়ার বিরুদ্ধে। তিনি শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের অন্তর্গত কাখোদা অঞ্চলের তৃণমূলের আহ্বায়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মস্যাৎ করে নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের টাকা খেয়ে প্রাসাদোপম বাড়ি বানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর কাটমানি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশের পর এলাকাবাসীরা ওই তৃণমূল নেতাকে ঘিরে ধরলে তিনি টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তারপরেও তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতারিত ব্যক্তিরা ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়েই তমলুক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। পাশাপাশি অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রমেশচন্দ্র পড়িয়ার বিরুদ্ধেও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকাবাসীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারী অনুদানের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছেন। এছাড়াও স্কুল শিক্ষক সহ বিভিন্ন সরকারী দফতরে চাকরী পাইয়ে দেওয়ার নামে, জমি জমা সংক্রান্ত বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার নামেও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। এতদিন এলাকার বাসিন্দারা সবটাই মুখ বুঝে সহ্য করলেও মুখ্যমন্ত্রীর কাটমানি প্রসঙ্গ উত্থাপনের পর এলাকাবাসীরা ওই ব্যক্তির কাছে টাকা ফেরৎ চায়। তাঁর নামে এলাকায় পোস্টারও পড়ে। তিনি টাকা ফেরানোর কথা দিয়ে অনেককেই চেক দেন। তবে সেই চেকও বাউন্স করে গিয়েছে বলে গ্রামবাসীদের দাবী। এরপরেই গ্রামবাসীরা তাঁর বাড়িতে রবিবার চড়াও হন।

কেন তিনি টাকা ফেরৎ করেননি, বা তিনি কবে টাকা ফেরাবেন সে বিষয়ে গ্রামবাসীদের কোনও জবাবই দিতে পারেননি তিনি। এরপরেই ক্ষিপ্ত এলাকাবাসীরা তাঁকে টানা হেঁচড়া করেন ও মারধর করেন। খবর পেয়ে তমলুক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। রমেশ বাবুর দাবী, ধীরে ধীরে আমি কিছু টাকা দিয়েছি। এর পরও একটা সমাধান করে সবার টাকা ফিরিয়ে দেব বলেছি। কিন্তু ওরা আমার বাড়িতে এসে আমাকে মারধর করেছে। যদিও কেন তিনি টাকা নিয়েছিলেন সে বিষয়ে কিছুই জানাতে চানিনি তিনি।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here