প্রবীন কমিউনিস্ট নেতা গুরুদাস দাশগুপ্তের প্রয়াণ, সমাপ্তি ঘটল একটি সংগ্রামী যুগের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক;  প্রবীন কমিউনিস্ট ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, দীর্ঘদিনের সাংসদ ও জননেতা কমরেড গুরুদাস দাশগুপ্তর জীবনাবসান ঘটেছে। বিগত কিছুদিন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩১ অক্টোবর ভােরে চেতলাস্থ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। স্ত্রী, কন্যা, নাতনি রেখে গেছেন। প্রখর বাগ্মী,স সুলেখক, গণ সংগঠক বহুমুখী ধারায় নেতৃত্বদানের অধিকারী কমরেড গুরুদাস দাশগুপ্ত সি পি আই উপ-সাধারণ সম্পাদক, এ আই টি ইউ সি’র সাধারণ সম্পাদক, ৪ বারের সংসদে রাজ্যসভার সদস্য (১৯৮৫-৯৪) এবং তিনবারের লেকসভার সদস্য (২০০২ ২০১৪) ছিলেন। এরই সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবীদের এবং শান্তি ও মৈত্রী আন্দোলনেরও তিনি নেতা ছিলেন। যৌবনে ছাত্র ও যুব আন্দোলনের উজ্জ্বল দিনগুলিতে তিনি ছিলেন নিখিল ভারত ছাত্র ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক (১৯৫৪ সাল থেকে) এবং নিখিল ভারত যুব ফেডারেশনেরও রাজ্য সম্পাদক (১৯৬৭ থেকে ১৯৭৮), ১৯৫২ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করার পর থেকে সি পি আই’তে তিনি অনত্যম জনপ্রিয় নেতা ছিলেন আজীবন।


এছাড়াও সাংসদ হিসাবে একাধিক সংসদীয় কমিটিতেও তিনি উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে হর্ষদ মেহতা শেয়ার কেলেংকারীর এবং ২০০৯ সালে ২জি স্পেকট্রাম কেলেংকারির তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০’র দশকে পাঞ্জাবে খালিস্তানপন্থীদের বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালে দাগী শিল্পপতিদের কর ফঁাকি ধরিয়ে দেওয়ায় পুরস্কারের অর্জিত অর্থও তিনি পাঞ্জাব সংহতি কমিটেিত দান করেন। কেন্দ্রের বিশ্বায়নী ও উদারপন্থী নীতির বিরুদ্ধে দেশের শ্রমিক আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এ আই টি ইউ সি-র পক্ষে কমরেড গুরুদাস দাশগুপ্তর অবদান ও উদ্যোগ সর্বজনস্বীকৃত। দেশের শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনে ঐক্য সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে গুরুদাস দাশগুপ্ত ছিলেন অন্যতম অগ্রণী। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ সৃষ্টিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও তার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। ১৯৮৭ সালে রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কের শুরুর দিনগুলিতে তিনি সংসদে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টকে ভিত্তি তারিখ ধরে ধর্মস্থানগুলাের স্থিতাবস্থা বিল উত্তাপন
করেন।

কমিউনিস্ট, শ্রমিক ও বিভিন্ন গণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। ১৯৬৬ সালের খাদ্য আন্দোলনের গণউত্থানের দিনগুলিতে যুব জমায়েতের ক্ষেত্রে উল্লেখযােগ্যদের মধ্যে গুরুদাস দাশগুপ্ত ছিলেন অন্যতম। এছাড়া, সাম্রাজ্যবাদবিরােধী বিশ্ব যুব উ‘সবের অঙ্গ হিসাবে ধারাবাহিকভাবে সংগঠিত পশ্চিমবঙ্গ যুব উৎসবেরও তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। এ আই টি ইউ সি-র শতবর্ষে পদার্পণের দিনে ৩১ অক্টোবর সংগঠন হারাল তার প্রিয় নেতাকে।


এহেন বহুমুখী ক্ষমতাসম্পন্ন নেতার মৃত্যুতে কমিউনিস্ট পার্টি, বামপন্থী, প্রগতিশীল, শ্রমিক ও গণ আন্দোলনে শােকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে গভীর শােক প্রকাশ করেছেন সি পি আই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, এ আই টি ডি সি’র সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কাউর, সি পি আই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক স্বপন ব্যানার্জি প্রমুখ। এছাড়া, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সি পি আই (এম) সহ বিভিন্ন বামপন্থী দল, এমনকি কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেপি নেতৃত্বও শােক জানিয়েছেন।

আগামীকাল, ১ নভেম্বর শুক্রবার তাঁর মহদেহ পিস ওয়ার্ল্ড থেকে সকাল ৯টায় তার চেতলার বাড়িতে যাবে। সকাল ১০টায় এ আই টি ইউ সি রাজ্য দপ্তর (৫০/১, নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট)-এ নিয়ে যাওয়া হবে। বেলা ১১টায় সি পি আই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দপ্তর ভূপেশ ভবনে আনা হবে। বেলা ১টা পর্যন্ত সকলের শ্রদ্ধা জানানাের জন্য শায়িত থাকবে।
তারপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে কমরেড গুরুদাস দাশগুপ্তর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

@স্বর্ণার্ক ঘোষ 

(Visited 33 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here