প্রকৃত মালিকের খোঁজ পেতে মেডিক্যাল টেস্টের সন্মুখীন ভাতার থানার হেফাজতে থাকা গবাদিপশু লক্ষ্মী

0
19

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: লক্ষ্মীর প্রকৃত মালিক কে, তা নিয়ে চুড়ান্ত ধন্দ তৈরি হয়েছে। তবে এই লক্ষ্মী অবশ্য ধন ও ঐশ্বর্যের দেবী নন। ইনি হলেন গৃহপালিত গরু। আদরের নাম লক্ষ্মী। এই গবাদি পশুর প্রকৃত মালিক চিহ্নিত করা নিয়েই শুধু ধন্দ তৈরি হয়নি। লক্ষ্মী বকনা গরু না গাই গরু তা নিয়েই ধন্দ তৈরি হয়েছে। শেষমেশ লক্ষ্মীর দুই দাবিদার ভাতার থানার পুলিশের কাছে লক্ষ্মীর মেডিকেল টেস্ট করানোর দাবি জানালেন। মেডিকেল টেস্টের দিন নির্ধারণ না হওয়ায় গোয়ালঘর ছেড়ে সোমবার ভাতার থানাতেই ঠাঁই নিতে হল লক্ষ্মীকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাতারের বলগোনা গ্রামের বাসিন্দা সুনীল থোমের দাবি লক্ষ্মী নামের গরুটি তাঁর। তিনি বলেন লক্ষ্মী গাইগরু। অপরদিকে ভাতারের নিত্যানন্দপুর পঞ্চায়েতের পাটনা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আফজলুন হক দাবি করছেন গরুটি তাঁর। তিনি বলছেন গরুটি বকনা গরু। সোমবার সকালে গরুই দুই দাবিদারই হাজির হন ভাতার থানান। গরুর মালিকানা নিয়ে দিনভোর চাপানউতোর  চললেও কোনওরকম মীমাংশা সূত্র মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে গরুর আসল মালিকের হদিশ পেতে দু-পক্ষই গরুর মেডিকেল টেস্ট করানোর দাবি তোলেন। পুলিশও তাতে সহমত হয়।

আফজলুন হক বলেন, কিছুদিন আগে তাঁর পোষা গরুটি হারিয়ে যায়। গরু খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে তিনি ভাতারের বলগোনা গ্রামে হাজির হন। গ্রামের নতুনপাড়া এলাকায় রাস্তার ধারে গাছের তলায় বসে বসে জাবর কাটতে থাকা গরুটিকে দেখেই তিনি চিনতে পারেন। এরপর খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করতেই তিনি জানতে পারেন নতুন পাড়ার বাসিন্দা সুনীল থোম গরুটি পুষছেন। যদিও সুনীল থোম দাবি করেন, কারওর হারিয়ে যাওয়া গরু তিনি নিজের বাড়িতে নিয়ে যাননি। যে গরুর কথা আফজলুন বলছে সেই গরুটি তাদের পোষা আদরের গরু। তার নাম লক্ষ্মী। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে গাই গরু লক্ষ্মী তাঁদের বাড়ির পোষ্য হয়ে রয়েছে বলে সুনীল থোম দাবি করে। গরুর মালিকানা দাবি করে এরপর দুপক্ষই ভাতার থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন।

গরুর মেডিকেল টেস্ট করানোর দাবিতে দুপক্ষ স্বাক্ষর করে ভাতার থানায় লিখিত আবেদন জানিয়েছে।

তদন্তে নেমে ভাতার থানার এক পুলিশ অফিসার বলগোনা গ্রামে যান। সেখানে পৌছে তিনিও গরুর মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের মিমাংসা করতে ব্যর্থ হন। শেষে থানার বড়বাবুর নির্দেশে সোমবার সকালে লক্ষ্মীকে হাজির করানো হয় থানায়। উভয়পক্ষই নানান চিহ্ন দেখিয়ে দাবি করেন লক্ষ্মী তাঁর। কার দাবি সত্য, তা নির্ধারণে লক্ষ্মীর দুই দাবিদারই লক্ষ্মীর মেডিকেল টেস্ট করানোর সিদ্ধান্তে উপনীত হন। পুলিশ তাতে সহমত হওয়ায় আপাতত লক্ষ্মী ভাতার থানায় বহাল তবিয়তে দিন কাটাচ্ছে। তবে মেডিকেল টেস্টের পর কার গোয়ালে ঠাঁই হয় লক্ষ্মীর সেদিকেই তাকিয়ে ভাতারবাসী।

ছবি: সুদিন মণ্ডল

(Visited 4 times, 1 visits today)