বেনিয়মের অভিযোগ , প্রধান শিক্ষিকাকে স্কুলে আটকে রেখে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি (ঝাড়গ্রাম): স্কুলে নানা রকম বেনিয়মের অভিযোগ তুলে বুধবার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সহ একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টা তালা বন্ধ করে রাখলেন গ্রামবাসীরা।
এই খবর পেয়ে সন্ধ্যা নাগাদ বিদ্যালয় পৌঁছান অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং পুলিশ l পুলিশের উপস্থিতিতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের আলোচনার পর সমস্যা মেটে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়া অঞ্চলের ধাতকিনালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া রয়েছে ৩৪ জন। শিক্ষক রয়েছে দু জন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের পরিবেশ একেবারেই নেই l ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা যখন খুশি বিদ্যালয় নিয়ম মেনে ক্লাসও নেন না । বিদ্যালেয় নিম্ন মানের মিডডে মিল খেতে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। বিদ্যালয়ের চারপাশ জঞ্জালে ভরা। শৌচাগার থাকা সত্ত্বেও তা তালা বন্ধ করে রাখা হয়। ব্যবহার করতে না দিয়ে পড়ুয়াদের জঙ্গলে যেতে বাধ্য করা হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অভিভাবক এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীরা। এদিন গ্রামবাসীরা জানান, বিদ্যালয়ের এই সার্বিক অব্যবস্থা নিয়ে গ্রামের লোকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কারো সঙ্গে ভালোভাবে কথা না বলায় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তারা ওই শিক্ষিকা এবং একজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকিয়ে এবং পড়ুয়াদের বাইরে রেখে বেলা এগারোটা পর্যন্ত তালা বন্ধ করে রাখেন । গ্রামবাসীরা দাবি করেন, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক না এলে তালা খোলা হবে না।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ঋজু মাহাতো বলেন “ বিদ্যালয়টির পঠন পাঠনের মান অত্যন্ত খারাপ করেছেন ওই শিক্ষকা। পড়াশোনার পরিবেশ বলতে নেই। বিদ্যালয়ে যখন খুশি উনি আসেন। ক্লাস পর্যম্ত করেন না। গ্রামবাসীরা কথা বলতে গেলে খারাপ ভাষায় কথা বলেন। বিদ্যালয়ে চারিদিক জঙ্গলে ভরা। পড়ুয়াদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এদিন ওই শিক্ষিকার সাথে যোগাযোগ করা যায় নি।
অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মনোজিৎ নস্কর বলেন “ আমি এসেছিলাম। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলেছি। উনি বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বীকার করেছেন ।আলোচানার ভিত্তিতে সমস্যা মিটে গেছে।”

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here