এনআরসি নিয়েই বৈতরণী পারের লক্ষ্যে মমতা

শংকর দত্ত,কলকাতা: অবশেষে জল্পনা মতো এনআরসি ইস্যুকে সামনে রেখেই আসন্ন পুর-ভোট ও আগামী বিধানসভা ভোটের পালে হওয়া তুলতে চলছে রাজ্যের শাসক দল।
লোকসভা ভোটে গোটা রাজ্যে বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ভরাডুবির পর একপ্রকার শাসক তৃণমূল মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে গত কয়েক মাসে নানা কর্মসূচিরর মাধ্যমে মানুষের খানিকটা কাছে আসার পরপরই বৃহস্পতিবার এর মেগা বৈঠকে দলনেত্রী জন-প্রতিনিধিদের জন্য ঠিক করে দিলেন নতুন রুট-ম্যাপ।

এদিন তৃণমূল ভবনে শাসক দলের বিধায়ক, সংসদ সহ জেলা নেতৃত্বকে উপস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো একপ্রকার আগামী দিনের পথ চলার নয়া কৌশল বাতলে দেন তাঁর বাধ্য-ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। মূলত আগামী পুর-ভোট, অযোধ্যা মামলার রায় ও ২৫ নভেম্বরে রাজ্যের তিন জেলার বিধানসভার উপ-নির্বাচন বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ প্রাধান্য পেলেও এসে যায় স্থায়ী সাংগাতঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রসঙ্গটি।

সূত্রের খবর, দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেই এদিনকার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রশান্ত কিশোরেও। এক প্রকার তাঁর সামনে তাঁর স্ট্র্যাটেজি মতোই নিজের নেক্সট গেমপ্ল্যান বাতলালেন মমতা। আর হল ভর্তি হয়ে বাধ্য স্টুডেন্টদের মতোই শুনলেন তাবড় নেতা-নেত্রীরা।

প্রথমত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই রাম মন্দির নিয়ে একটা ফয়সালা হতে চলেছে। তাই এটাকে ট্রাম-কার্ড করে বিজেপি যাতে রাজ্যে কোনো ভাবেই ধর্ম-বৈষম্যের রাজনীতি না করতে পারে। যাতে এর সাফল্য কে কাজে লাগিয়ে সমস্ত হিন্দু ভোটকেও তাঁরা একদিকে না করতে পারে সে বিষয়ে সমস্ত নেতাদের যেমন সজাগ থাকতে হবে। তেমনি একইভাবে অসমে এনআরসি করার পর এবং এ রাজ্যে এনআরসি চালু করবার হুমকি দিয়ে বিজেপি যে খানিকটা ব্যাকফুটে গেছে সেটা বুঝতে পেরেই আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছতে এনআরসি বিরোধী প্রচার করে নিজেদের আসন আরও পাকা করতে চায় তৃণমূল। তাই অন্য কিছু বিশেষ এজেন্ডার মধ্যে এই মুহূর্তে বাংলার মানুষকে বেশি করে তৃণমূলের দিকে টানতে এনআরসি ইস্যুই যে প্রাধান্য পাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে লোকসভা ভোটে ৪২টি আসনের মধ্যে ৪২টি টার্গেট থাকলেও বিজেপি মোদি হওয়ায় সেই সময় ১৮টি আসন ছিনিয়ে নিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করে অনেকটা। বিশেষত পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলা এবং আদিবাসী, তফসিলি জাতি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আশ্রয় নিয়েছে সেটা শাসক দলের কাছে একটা মস্ত পরাজয়। তাই এবার দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের তফসিলি-জাতি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে নিজেদের দিকে ঘোরাতেও বিশেষ কর্মসূচি নিচ্ছে দল।

জানা যাচ্ছে, এই সব অঞ্চলের দলীয় নেতা মন্ত্রী ও বিধায়কদের বিশেষ করে নির্দেশ দিয়েছেন গ্রাসরুট লেভেলে আরো বেশি করে মানুষের পাশে থাকার জন্য। একই ভাবে প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্ক প্রসূত ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি যে আসলে দলকে ডিভিডেন্ড দিয়েছে সেটা মেনে নিয়েই এদিন দলনেত্রী আরও বেশি করে এই কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।

তবে সব কিছুর পরেও সামনের পুর-নির্বাচন এই মুহূর্তে পাখির চোখ তৃণমূলের। আর তার সঙ্গেই নিজেদের সংগঠনকে আরও বেশি করে চাঙ্গা রেখে সামনের বিধানসভায় কোনও ভাবেই বিজেপি যাতে দাঁত ফোটাতে না পারে সে বিষয়টিকেই মাথায় রাখছেন তৃনমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সে ক্ষেত্রে এনআরসি নিয়ে গ্রামগঞ্জের ভীত সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগালেই যে আগামী দিনে কেল্লা-ফতে হবে সেটাই মমতার আসল টনিক ছিল এদিনের বৈঠকে।

এখন দেখার আগামী দিনে এইসব ইস্যুতে তৃনমূল তাদের হারানো জায়গা ফিরে পাবে,নাকি বিজেপিই হবে আগামী দিনের রাজ্যের মূল কান্ডারী,অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও কিছু দিন।

sweta

(Visited 9 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here