খ্রিস্টধর্ম প্রচারক উইলিয়াম কেরির প্রয়ান দিবস আজ

উইলিয়াম কেরি ৯ জুন ১৮৩৪ সালে প্রয়াত হয়েছিলেন। তিনি একজন একজন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক, যাজক ও অনুবাদক। তিনি ব্যাপ্টিস্ট মিশনারি সোসাইটির (বাপিস্ম ধর্মপ্রচারক সমাজ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ভারতের শ্রীরামপুর দিনেমার উপনিবেশে (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলায় অবস্থিত) খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের কার্যে নিযুক্ত হয়ে তিনি বাংলা, সংস্কৃত এবং অন্যান্য ভাষা ও উপভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন। ভারতবর্ষে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারণায় তাঁর অবদানের জন্য তিনি আধুনিক খ্রিষ্টধর্ম অভিযানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত।

কেরি, তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ফিলিক্স, স্ত্রী ও কন্যাসহ টমাস ১৭৯৩ সালের এপ্রিল মাসে একটি ইংরেজ জাহাজে চেপে লন্ডন ছাড়েন। ডরোথি কেরি প্রথমে তাঁদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করেছিলেন। কারণ সেই সময় কেরির চতুর্থ পুত্র ডরোথির গর্ভে। তাছাড়া তিনি জীবনে নিজের বাড়ি থেকে দূরে বড়ো একটা যাননি কখনও। কিন্তু ইংল্যান্ড ছাড়ার আগে তাঁরা আর একবার ডরোথিকে তাঁদের সঙ্গে যেতে অণুরোধ করেন। ডরোথির বোন কেটি তাঁকে সন্তানের জন্মের সময় সাহায্য করবেন জেনে ডরোথি রাজি হন। আইল অফ ওয়েইট-এ তাঁদের যাত্রা বিলম্বিত হয়। একটি বার্তার মাধ্যমে তাঁদের জাহাজের ক্যাপ্টেন জানতে পারেন এই অননুমোদিত মিশনারিদের কলকাতায় নিয়ে গেলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া নীতি লঙ্ঘিত হবে। তাই তিনি তাঁদের জাহাজে স্থান দিতে অস্বীকার করেন। জুন মাসে টমাস এক ড্যানিশ ক্যাপ্টেনের সন্ধান পান যিনি তাঁর জাহাজে কেরির দলটিকে স্থান দিতে রাজি হন। কেরির স্ত্রী ততদিনে তাঁদের সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তিনি এই শর্তে কেরির সঙ্গে যেতে রাজি হন যে তাঁর বোনও তাঁর সঙ্গে যাবেন। নভেম্বর মাসে তাঁরা কলকাতায় উপনীত হন।

কলকাতায় পৌঁছে তাঁবু প্রস্তুত ও মেরামতির কাজ করে তাঁদের জীবনধারণ ও মিশন স্থাপনের জায়গা প্রস্তুত করতে হয়। স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে সংযোগস্থাপনের জন্য তাঁরা বাংলা ভাষা শিখতেও শুরু করেন। টমাসের এক বন্ধুর দুটি নীলকুঠি ছিল। সেই কুঠিতে ম্যানেজারের প্রয়োজন পড়াতে কেরি সপরিবারে মদনাবাটীর উত্তরে চলে আসেন। ছয় বছর সেই নীলকুটিতে ম্যানেজারের কাজ করার সময় তিনি বাংলা নূতন নিয়ম-এর প্রথম সংস্করণের কাজ সমাপ্ত করেন। এই সময় তিনি তাঁর মিশনারির নীতিনির্দেশিকাও প্রস্তুত করেন। এই নির্দেশিকায় একত্র বাস, আর্থিক স্বনির্ভরতা ও স্থানীয় মিনিস্টারদের প্রশিক্ষণের কথা ছিল। এরই ভিত্তিতে স্থাপিত হয় তাঁর মিশনারি সম্প্রদায়। কেরির পুত্র পিটার ডিসেন্ট্রি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডরোথি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরবর্তী জীবনে তিনি আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি।

ইতিমধ্যে মিশনারি সোসাইটি ভারতে আরও মিশনারি পাঠাতে শুরু করেন। প্রথমে আসেন জন ফাউন্টেন। তিনি মদনাবাটীতে এসে স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। তারপর আসেন চিত্রকর উইলিয়াম ওয়ার্ড, স্কুলশিক্ষক জোশুয়া মার্শম্যান, মার্শম্যানের ছাত্র ডেভিড ব্রানসডন এবং উইলিয়াম গ্রান্ট, যিনি অবতরণের তিন সপ্তাহের মধ্যেই মারা যান। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখনও মিশনারিদের প্রতি বিরুদ্ধভাবাপন্ন ছিলেন। তাই তাঁরা শ্রীরামপুরের ড্যানিশ কলোনিতে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারি কেরির সঙ্গে তাঁরা উপস্থিত হন শ্রীরামপুরে ।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *