অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বাচ্চাদের খাবার নিম্নমানের, বিক্ষোভ স্থানীয়দের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | August 9, 2019 | 3:19 pm

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাচ্চাদের দেওয়া হয় শুধু ভাত। সাথে আর কিছুই দেওয়া হয় না। রান্নাও অত্যন্ত নিম্নমানের। যেদিন সবজি দেওয়া হয়, সবজিতে থাকে খোসা। কোনও দিন ভাত একেবারেই গলে যায়। শুধু তাই নয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির রান্নাঘরও একেবারে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা আবর্জনায় ভরা। রান্না করার জায়গার পাশেই বাঁধা গরু ছাগল। খাওয়া-দাওয়া করানোর জায়গাটাও নোংরাতে ভর্তি। এমনই অভিযোগ উঠল সিউড়ি পৌরসভার অন্তর্গত ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডের বাড়ুইপাড়ার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, আজ সকালে স্থানীয় বাচ্চাদের পাতে শুধু ভাত দেওয়ার সময় এক অভিভাবক এসে জিজ্ঞেস করেন, শুধু ভাত কেন? সেই অভিভাবকের অভিযোগ, রাঁধুনি উত্তর দেয়, যা হয়েছে তাই নিতে হবে। এর থেকে বেশি কিছু নেই। আর এরপরই উত্তেজিত হয়ে ওঠে এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘক্ষন ধরে আটকে রাখা হয় সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রাধুনী রূপা দত্তকে।

এই ঘটনা জানাজানি হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ঘটনাস্থলে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমণি মর্জিনা বিবি এলে উত্তেজিত জনতারা তার উপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন দিদিমণি মর্জিনা বিবি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই বাচ্চাদের নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন তারা এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি এই কেন্দ্রের পড়াশোনার বিষয়েও বিস্তর অভিযোগ বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের বক্তব্য, এখানে কোনও দিন পড়াশোনা হয় না। দিদিমণি কেবল আসেন আর চলে যান। আর ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খাবার নিয়েই বাড়ি চলে যায়।”

নিম্নমানের রান্না প্রসঙ্গে রাঁধুনি রূপা দত্ত জানান, “আমাকে দিদিমণি যেমন রান্না করতে বলে গিয়েছেন আমি তেমনই করেছি।” রাঁধুনি এবং দিদিমনির অভিযোগ, অফিস থেকে কোনওরকম বিল পাওয়া যায়নি কয়েক মাস ধরে। এমনকি এখানে যে ভাড়াটুকু লাগে সেটুকু তাদের দু’জনকেই দিতে হয়। বেতনও পাননি তারা। আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অফিসকে জানানো সত্ত্বেও অফিস কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আজ শুধু ভাত রান্না করার কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন রাঁধুনি রূপা দত্ত।

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এক কর্তৃপক্ষ প্রবীর বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো বিষয়টি দেখে বলেন, “আমাদের একটি নির্দিষ্ট রেশন দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতেই রান্না করার কথা। কিন্তু এনারা কেন এমন করছেন সেটা জানি না। এনাদের অভিযোগ, বিল নাকি দেরিতে হয়েছে। আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করবো।”

তিনি আরও বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তাও আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে মিউনিসিপালিটি এলাকার মধ্যে হওয়ায় আমাদের এর সুরাহা করতে বেশি সময় লাগছে।”

অন্যদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নিয়ে একই অভিযোগ বীরভূমের মহঃবাজারের ভূতুরা গ্রামের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও। সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কিছুক্ষণ তালাবন্ধ করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীদের আটকে রাখে। পরে ঠিকঠাক খাবার দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তাদের মুক্তি দেয় গ্রামবাসীরা।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট