Slideকলকাতা

টাকা নিয়ে ভিনরাজ্যের অধ্যাপককে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা

কলকাতা: টাকার বিনিময়ে রাজ্যের কলেজের সহকারি অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য প্যানেলে নাম রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠল পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে। সঠিক পরিচয় ও বাসস্থান খতিয়ে না দেখেই ভিনরাজ্যে চুক্তিভিত্তিক কর্মরত ওই সহকারি অধ্যাপককে চাকরি দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশন। অভিযোগকারীর নাম ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সম্পাদক আরিয়ান সুলতান।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি নৃতত্ত্ববিদ্যা বিষয়ে সহকারি অধ্যাপক পদে ওবিসি বি ক্যাটাগরিতে নিয়োগের জন্য পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের তরফে যে কজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রথমে নাম রয়েছে মায়াঙ্ক প্রকাশ বলে এক ব্যক্তির। যার পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ও ঝাড়খণ্ডের রাঁচি দুই জায়গাতেই ভোটার তালিকায় নাম আছে। প্রশ্ন যেখানে, তার পিতার নাম জগদীপ প্রসাদ কুমার, যিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। পরিবারের সকলের পদবী কুমার হলেও, তার পদবী আশ্চর্যজনকভাবে প্রকাশ কিভাবে হয়? কুমার পদবীর ব্যক্তিরা রাজস্থান ও ঝাড়খন্ডে তফসিলি জাতির নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। প্রকাশ পদবীর ব্যক্তিরা ঝাড়খণ্ডে সুপারিশকৃত কেন্দ্রীয় ওবিসি ক্যাটাগরির অধীন হলেও, পশ্চিমবঙ্গে তাঁরা জেনারেল ক্যাটাগরিতে পড়েন। এর পাশাপাশি মায়াঙ্ক প্রকাশ ঝাড়খণ্ডের রাঁচি কলেজে পূর্ণ সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশিকা না মেনেই তিনি একটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করতে করতেই নিয়মিতভাবেই রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। একইসঙ্গে অবৈধভাবে কলেজ থেকে বেতন ও পিএইচডির জন্য অনুদানও পাচ্ছেন।
আরিয়ান সুলতানের অভিযোগ, শাসকদলের নেতা, মন্ত্রীদের কাটমানি দিয়েই সে জাল ওবিসি শংসাপত্র হাতিয়েছে। প্যানেলে দু নম্বরে নাম আছে দমদম দুর্গানগরের শুক্লা সিকদার বলে এক মহিলার। মায়াঙ্কের সব তথ্য নিয়ে ওই মহিলা কলেজ সার্ভিস কমিশনে একাধিকবার রাজ্যপালের মাধ্যমে আর টি আই করলেও কোন জবাব আসেনি। কমিশনে অভিযোগ জানাতে গেলে, চেয়ারম্যান কোনবারই তার সঙ্গে দেখা করেননি। সেক্রেটারি তাকে বলেন, মায়াঙ্ক প্রকাশের যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখা হয়েছে তাতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায় নি। শুক্লা দেবীকে কমিশনের কন্ট্রোলার বিষয়টি নিয়ে বেশি মুখ খুললে প্যানেল থেকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন শুক্লা দেবী। তার বক্তব্য ” বন্ধুদের কাছ থেকে মায়াঙ্ক প্রকাশের সম্পর্কে জেনেই আমি আর টি আই করি। কিন্তু একটারও উত্তর পাইনি। এমনকি কোন বিষয়ে আমায় কত নম্বর দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে আরটিআই করলেও , চেয়ারম্যানের সই ছাড়াই একটি মার্কশিট দেওয়া হয়েছে। মায়াঙ্ক সম্পর্কে অভিযোগ জানালে উপরন্তু ধমকানো হচ্ছে। নৃতত্ত্ববিদ্যার একটি আসনের জন্য তিনজনের নাম প্যানেলে রয়েছে। যার প্রথমজনই ভুয়ো। আমার পরে যার নাম আছে তিনিও অভিযোগ জানিয়েছেন, কাজের কাজ কিছু হয়নি। সত্যটা সবাই জানেন। টাকার বিনিময়েই এই কাজ করা হয়েছে। “আরিয়ান সুলতান নিজেও মায়াঙ্ক প্রকাশ ও কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এমতাবস্থায় মায়াঙ্ক ও তার পরিবারের ভোটার লিস্ট ও ওবিসি লিস্টের তথ্যপ্রমাণ নিয়ে রাজ্য সরকার ও কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আরিয়ান সুলতান। তাঁর আরও অভিযোগ “কলেজ সার্ভিস কমিশন দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে। কমিশনের ৬০ শতাংশ নিয়োগেই দুর্নীতির গন্ধ আছে। সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় আরবিকে, যেখানে ৮০ শতাংশ তারাই নিয়োগ হয় যাদের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, গ্র্যাজুয়েশন , পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের বৈধ শংসাপত্রই নেই। রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে সাম্মানিক এম এ ডিগ্রি পেয়েছেন। একটা ধাক্কা না দিলে এই দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না।”

(Visited 14 times, 1 visits today)

Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close