রামপুরহাটে অবৈধভাবে বালি মজুত করে চলছে ব্যবসা

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাটঃ অবৈধভাবে বালি মজুত করে চলছে ব্যবসা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাস্তার ধারে পাহাড় প্রমাণ বালি মজুত করে চলছে ব্যবসা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বর্ষায় নদী থেকে বালি তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। তার আগেই বালি ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন নদী থেকে পর্বত সমান বালি মজুত করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক শ্রেণির প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর-সাতঘরিয়া রাস্তার ধারে অবৈধভাবে কয়েক হাজার সিএফটি বালি মজুত করে চলছে ব্যবসা। বালি মজুত করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত প্রধান শ্রাবণী সাহার দেওর বিমল সাহার বিরুদ্ধে। রাস্তার ধারে বালি মজুত করার ফলে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কারন মাঝে মধ্যেই হাওয়ায় সেই বালি উড়ে মানুষের চোখে ঢুকছে। শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকায় এলাকার মানুষও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। বিমলবাবু বলেন, “এই বালি কয়েকজন মিলে নামিয়েছি। এলাকায় দুটি বাড়ি হচ্ছে। কলকাতা পুলিশে কর্মরত বলরাম সাহা বাড়ি করছে। সেই বাড়ির জন্য বালি মজুত করে রাখা হয়েছে। ওই বালি ভরাট করার জন্য রাখা হয়েছে। তাছাড়া এলাকার মানুষ চাইলে তাদের বালি বিনামূল্যে সাহায্য করা হয়। তবে কোন কাগজ নেই”। যদিও তার দাবির সমর্থনে কোন প্রমাণ মেলেনি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে বালি ওই এলাকায় মজুত করা হয়। সেখান থেকেই বালি চরাদামে বিক্রি হয়ে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। একই ভাবে পাহাড় প্রমাণ বালি মজুত করা হয়েছে মুরারই থানার ডিহা গ্রামের কাছে বোলপুর – রাজগ্রাম রাস্তার ধারে একটি ঠিকাদার সংস্থা দুটি জায়গায় পাহাড় প্রমাণ বালি মজুত করা হয়েছে। যদিও ঠিকাদার সংস্থার কর্ণধার সঞ্জিবুর রহমান বলেন, “তিনটি সরকারি কাজ চলছে। সেই কাজের জন্য বালি মজুত রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ বৈধভাবেই বালি মজুত করা হয়েছে”। এছাড়া মহকুমার নারায়নপুর, নলহাটি এলাকায় প্রচুর বালি মজুত করে চলছে ব্যবসা। বোলপুর-রাজগ্রাম রাস্তার উপর সাঁইথিয়া গরুর হাটেও কয়েক লক্ষ সি এফ টি বালি মজুত রয়েছে। রামপুরহাট মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুব্রত সরকার বলেন, “এভাবে কেউ বালি মজুত করতে পারে না। আমরা বি এল আরও কে পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখব”।

(Visited 14 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here