স্ট্যান্ডিং কমিটির নির্দেশে বৈঠক

0
6

উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ, স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা: উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি চলছেই। বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ নিয়ে কয়েকটি পুরসভা রাজনীতি করছে বলে বিধানসভায় অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। এবার বিরোধীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থবরাদ্দে রূপায়ণে তৃণমূল লাগাতার বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এ ব্যাপারে গত শুক্রবার আসানসোলের মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিজেপি সমর্থকরা। ব্যাপক গন্ডগোলও হয়। সোমবার বিধানসভায় বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচে ‘আমরা-ওরা’র অভিযোগ করেন কিছু বিধায়ক৷ এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক বিধায়ককে বছরে ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে সরকার। সেই টাকা দিয়ে বিধায়করা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ভিতর যে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করানোর জন্য সুপারিশ করতে পারেন। বছরের পর বছর সেই নিয়ম চলে আসছে৷ কিন্তু এখন তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভাজনের রাজনীতি। অভিযোগ, বেছে বেছে বিরোধী দলের বিধায়কদের এমএলএ ফান্ডের টাকা খরচে বাগরা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। বিধায়করা টাকা খরচের জন্য সুপারিশ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরসভা অথবা জেলা প্রশাসন কাজ শুরুর অনুমতি দিচ্ছে না। এনিয়ে প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও কোনও ইতিবাচক সাড়া মিলছে না। অগত্যা নিজেদের অধিকার আদায়ে কিছু জায়গায় আইনি রাস্তায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধীরা।

বিধায়ক তহবিলের টাকা খরচে বাগড়া দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করতে চলেছেন কংগ্রেস এবং বাম বিধায়করা। সোমবার সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য জানতে চান, উত্তর দমদম এবং নিউ ব্যারাকপুর পুরসভা এলাকায় বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের অর্থবরাদ্দে প্রকল্প রূপায়ণ হচ্ছে না? প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান দফতরের মন্ত্রী তাপস রায় জানান, এই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিধায়কের। তখন তন্ময়বাবু সংশ্লিষ্ট পদ্ধতির উল্লেখ করে মন্ত্রীর যুক্তি নস্যাৎ করে রাজ্যের শাসক দলের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন।

এরপর বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান হুগলির বৈদ্যবাটি ও চাঁপদানি পুরসভায় এই প্রকল্পে ‘বিমাতৃসুলভ ব্যবহারের’ অভিযোগ করেন। বলেন, তাঁর সুপারিশ অনুযায়ী যথাযথ কাজ হচ্ছে না। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না। মন্ত্রী জবাবে বলেন, ‘এটা হয়ে থাকলে ঠিক হয়নি। কারণ, যে বিধায়কের সুপারিশে প্রকল্প হচ্ছে, তাঁর নাম ওখানে ফলকে লেখা এবং অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে তাঁকে অবশ্যই আমন্ত্রণ জানানো উচিৎ।’

এরপর মালদহ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোস্তাক আলম, বিজেপি-তে সদ্য আসা বাগদার বিধায়ক দুলাল বর প্রমুখরা এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থবরাদ্দে রূপায়ণের ব্যাপারে অভিযোগ করতে থাকেন। তখন অধ্যক্ষ মন্ত্রীকে বলেন, ‘এত জনের এত অভিযোগ। স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ডাকা হোক। তাতে আপনি থাকবেন। অভিযোগকারীরা এবং সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদেরও রাখবেন।’

(Visited 1 times, 1 visits today)