আক্রান্ত শিল্পের স্বাধীনতা, সংলাপের কারণে নাটক নিষিদ্ধ বাংলায় !

রক্তিম দাশ, কলকাতা: ফের ওরা-আমরা ছবি। বাম আমলে নিষিদ্ধ হয়েছিল বাংলায় কমিউনিস্ট বিরোধি নাটক। এই ছবিটা তৃণমূল আমলেও বদলায়নি। শুধু মাত্র সংলাপর আর নামের কারণে ফের নাটক নিষিদ্ধ হয়েছে বাংলায়! এমনটাই অভিযোগ উঠছে। নাট্য পরিচালক প্রবীর মন্ডলের নাটক ‘ হিন্দু চোর’ এখন অলিখিত নিষিদ্ধের তালিকায়।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নাটকের মূল কাহিনী। এই নাটকের মূল দুটি চরিত্র হাফিজ সাহেব ও গিরেন নামে একটি চোর। নাটকে এই দুই চরিত্রের সংলাপই মূল আপক্তির কারণ।

নাটকের একটি দৃশ্যে গিরেন চোর হাফিজ সাহেবকে প্রশ্ন করছেন, ‘হাফিজ সাহেব বলেন, এটা মুসলমানদের দেশ। ওনার জন্য আমরা এদেশে (বাংলাদেশে) টিকে আছি। আমাগো হিন্দুদের দেশ কোনটা?’ এই প্রশ্নের উত্তরে হাফিজ সাহেব বলেন, ‘গিরেন পৃথিবীর সব ধর্মের মানুষের দেশ আছে। শুধুমাত্র হিন্দুদের কোনও দেশ নেই।’

তাঁর নাটকের নাম আর এই সংলাপ কারণে ঘোষিত শো বন্ধ করে দিয়ে টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে দর্শকদের। এমনটাই অভিযোগ নাটকের কাহিনীকার তথা পরিচালক প্রবীর মন্ডল। তিনি বলেন,‘ ২০১২ সালে বাম আমলে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। খালেদ চৌধুরি এটির মঞ্চসজ্জা করেছিলেন। এরপর আমরা সরস্বতী কলামন্দিরের হয়ে আরও ৩টে শো করি। বির্তক শুরু হয় ২০১৮-তে। ওই বছর ২৫ জুন শিশির মঞ্চে নাটকের নাম নিয়ে আপত্তি হয়। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়। আমরা নামে ময়দান থানায় একটি এফআইআর কবেন বিবেক সিং নামে একজন। শিশির মঞ্চ কর্তৃপক্ষ নাটকের শো বাতিল করে দেয়। আমি নাটকে শিরোনাম বদলে দিয়ে করি ‘হিন্দু চোর গিরেন’।’

প্রবীরবাবু বলেন, ‘এরপর ৩০ জুলাই আইসিসিআরে আমরা একটি শো করি। এরপর ২০১৯ সালে ২৭ মার্চ তপন থিয়েটারে শো করতে বুকিং করি। এই সময় প্রবীর মন্ডল আমার নামে হেস্টিংস থানায় আমার নামে এফআইআর করে। পুলিশ এই সময় আমার বাড়িতে এসে নাটকটি বন্ধ করতে বলে। পুলিশ জানায়, ভোটের কারণে অনির্দিষ্ট কালের জন্য নাটকটি বন্ধ রাখতে হবে। তাঁদের চাপে আমি সেদিন হলে গিয়ে দর্শকদেও কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে নাটকটি বন্ধ রাখি। তারপর থেকে আর কোনও সরকারি হলে আমি নাটক প্রর্দশনের অনুমতি পাইনি। এমনকি বেসরকারি হলগুলিও আমায় নাটক প্রর্দশনের সুযোগ দিচ্ছেন না। অলিখিত ভাবে আমার নাটকটি এখন নিষিদ্ধ।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক তথা শিক্ষাবিদ অচিন্ত বিশ্বাস বলেন, ‘নাটকের মূল কথা না জেনেই আপত্তি হচ্ছে। আমি নাটকটি দেখেছি। এটা নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রবীর মন্ডলকে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে, তাই বলে নাটক বন্ধ করা যায় না। বাংলাদেশে হিন্দুরা মাতৃভূমি ত্যাগ করছেন। এটা ওনি ওঁনার শিল্পসত্তা থেকে দেখিয়েছেন। শিল্পের ভাষায়। নাটকটি নিশ্চিত ভাবেই টনক নড়িয়েছে সরকারের। এটার পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। একটা সময় বাম আমলে অর্পিকা ঘোষের ‘পশু খামার’ (১৪ মার্চ, ২০১১) এবং ব্রাত্য বসুর ‘উইঙ্কেল-টুইঙ্কেল’ নাটকগুলি বন্ধ হয়েছিল। তখন কিন্তু হলে বুকিং বন্ধ করা হয়নি। যেখানে প্রদর্শন হত সেখানে প্রতিবাদ করে নাটক বন্ধ করা হয়েছিল। আসলে নাট্যশালায় গিয়ে প্রতিবাদ করার লোক শাসকদলের নেই। তাই প্রশাসনকে কাজে লাগনো হচ্ছে।’

রাজনৈতিক ভাষ্যকার ড. রাজলক্ষী বসু বলেন,‘  শিল্পী আর শিল্পর স্বাধীনতা থাকা দরকার। তার মনে এই নয় যে, তা সমাজকে আঘাত করে। কিন্তু এই নাটকটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলেছে। এটা তো সত্য। তাছাড়া এটা আমাদের দেশের ঘটনা নয়। তাহলে কেন নিষিদ্ধ করা হবে?’

sa.hamid

(Visited 32 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here