মৃত্যু মুখ থেকে বহালনগরে ফিরলেন কাশ্মীরে জঙ্গিহানা অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী বাসিরুল সরকার

কৌশিক অধিকারী: সাগরদিঘী: দক্ষিণ কাশ্মীরে নিহত শ্রমিকের সঙ্গে থাকতেন বহালনগরের বাসিন্দা বাসিরুল সরকার। মোট সাতজন থাকতেন একসঙ্গে, বাসিরুল জীবিত অবস্থায় বৃহস্পতিবার মধ্যে রাতে ফিরলেও বৃহস্পতিবার কাক ভোরে বাকি পাঁচজন সদস্যদের নিথর দেহ ফিরে আসে গ্রামে অন্যদিকে জহিরুউদ্দিন সেখ চিকিৎসাধীন শ্রী নগর হাসপাতালে ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাবার আনতে গিয়ে কোন রকমে প্রানে বেঁচে যান বাসিরুল, খাবার এনে ঘরে ঢুকতেই দেখতে পাননি পাঁচজন সদস্যদের। পরে দেখেন গুলি করে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। সেই থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাসিরুল সরকার। পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার থেকেই উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসেন বাসিরুল। পরিবারের সদস্যদের উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে বাড়ি ফিরতেই স্বস্তি নিশ্বাস ফেলেছেন বাড়ির সদস্যরা। তবে বাড়ি ফিরতেই নৃশংস ঘটনার বিরবন দিলেন বাসিরুল সরকার। কলকাতা এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ ও জঙ্গিপুর মহকুমা পুলিশ প্রশাসন বাসিরুল সরকার কে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫০হাজার টাকা আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয় ।

[আরও পড়ুন: কলকাতায় নবম বাংলাদেশ বইমেলা]

মঙ্গলবার নৃশংস ঘটনার বিবরণ দেন বাসিরুল সরকার। বাসিরুল সরকার জানান, মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটা নাগাদ কাজ থেকে ঘরে ফিরে আসা হয়, ঘরে বসে থাকাকালীন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ খাবার আনতে যাওয়া হয়েছিল এবং বুধবার সকালে বাড়ি ফিরে আসার জন্য ব্যাগ গোছানো কাজ চলছিল। খাবার এনে ঘরে ফিরতেই দেখি কেউ নেই ঘরে তখন কাশ্মীরে একজন ব্যক্তি বলছেন আমাকে আমি যাতে এই মুহূর্তে এখান থেকে সরে যাই কারন আতঙ্কবাদিরা ঢুকে গেছে এলাকায় ভয়ে আমি যেখানে কাজ করতাম তার বাড়িতে আশ্রয় নি। তখন কানে ভেসে ওঠে বন্দুকের গুলি আওয়াজ। আমরা সাতজন ছিলাম, পাঁচজন মারা গিয়েছেন জঙ্গিদের গুলিতে এবং একজন জখম হয়ে শ্রী নগর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘরের মধ্যে থেকে পাঁচজন কে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা।

গত ৮ই অক্টোবর কাশ্মীরে গিয়ে ছিলাম কাজের সন্ধানে, এই সময় কাজের টান কম থাকে আমাদের গ্রামে ফলে আর্থিক মুনাফা অর্জন জন্য কাশ্মীরে রওনা দিয়েছিলাম। কাজ করতে যাওয়া পরেই আমাদের কে কাশ্মীরে কিছু ব্যাক্তি বলেছিল এখান থেকে চলে যেতে কারন বেশ কিছু দিন ধরেই হামলা চালানো হচ্ছিল জঙ্গিদের পক্ষ থেকে। তবে বেশ কিছু দিন ধরেই পোষ্টার দেওয়া হয়েছিল অ কাশ্মীরের যারা আছে তারা যাতে এখান থেকে চলে যান। আমার গ্রামের পাঁচজন প্রতিবেশীকে গুলি করে হত্যা করা হল। আমি ফিরলেও বাকি একজন জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন বাকি পাঁচজন জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারল না। বাসিরুল সরকার বাবা রেমজিন সরকার জানান, আমি খুব চিন্তা ছিলাম। আজকে প্রশাসন নিয়ে আসার পরেই দুশ্চিন্তা মুক্ত হলাম।

জঙ্গিপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান, বাসিরুল সরকার ঘটনার পর ট্রোমাটাইজ ছিল, বৃহস্পতিবার সকালে এসএসকেএম ভর্তি করা হয় এবং বিকেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কলকাতা এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ পৌঁছে দেন বাড়িতে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের হাতে। ঘরের ছেলে বাসিরুল ফিরে আসতেই খুশি পরিবারের সদস্যরা।

(shreyashree)

(Visited 47 times, 1 visits today)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here