বৃষ্টির অভাবে সমস্যায় আমন চাষিরা

বৃষ্টি নেই, মাথায় হাত পড়েছে আমন চাষিদের

জুন থেকে জুলাইয়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত যেখানে গড়ে ৩২৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে সোমবার পর্যন্ত বীরভূমে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৮৩.০৪ মিলিমিটার। এই পরিস্থিতিতে জেলায় এখনও এক তৃতীয়াংশ লক্ষ্য মাত্রার বীজতলাও তৈরি করা যায়নি। ধান-চারা যা অন্যত্র তৈরি করে চাষের মূল জমিতে পোঁতা হয় তাই হল বীজতলা। অন্য বছর জুলাইয়ের মাঝামাঝির মধ্যে বাঁকুড়ায় অন্তত ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোয়া
হয়। এ বছর তা ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোয়া গিয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে আমন ধান অক্টোবরের শেষে তুলে নভেম্বর থেকে জমি তৈরি করে বোনা হত রবি মরসুমের ফসল। তাই সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা আমন ধানের বীজতলা তৈরি করতে বা বাঁচাতে।

পাঁশকুড়ার সাপুকুর বাজারের বীজ বিক্রেতা বিশ্বনাথ সামন্ত বললেন, ‘‘এ বার বৃষ্টি কম হওয়ায় আমন ধানের বীজ বিক্রি বেশ কম। যাঁরা বীজ কিনেছেন, তাঁদের অনেকেই জলের অভাবে এখনও বীজতলা করতে পারেননি। চাষিদের একটা বড় অংশের ধারণা, জুলাইয়ের শেষ দু’সপ্তাহে নিয়মিত বৃষ্টি হলে কোনও মতে বীজতলা বাঁচবে। ধনেখালির চাষি কাশীনাথ পাত্র বলেন, ‘‘কয়েক দশক ধরে চাষ করছি। এমন অবস্থা কখনও দেখিনি।’’ গলসির চাষি মানসকুমার হাজরা, শেখ সাহাদাত হোসেনদের দাবি, “বারবার সেচ দিয়েও বীজতলা শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে বীজতলা বাঁচানো কঠিন। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোয় বৃষ্টি নামমাত্র বা অপর্যাপ্ত।পূর্ব বর্ধমানে ঘাটতি দেখা গেছে।হুগলিতে দামোদর, মু্ণ্ডেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, কানা নদী থেকে চাষজমিতে সেচের জল যায়। দামোদরে সামান্য জল থাকলেও অন্য নদীগুলি শুকিয়ে কাঠ।ফলে, ‘রিভার লিফট ইরিগেশন’ সম্পূর্ণ বন্ধ। ধনেখালি, তারকেশ্বর, বলাগড়, চাঁপাডাঙ্গা, জাঙ্গিপাড়া, সিঙ্গুর, পুরশুড়া,পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেও কমবেশি ভুগছেন চাষিরা।

প্রাক্তন কৃষি-কর্তা তথা কৃষি-বিজ্ঞানী স্বদেশ মিশ্র জানান,মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তরবঙ্গে অতিবর্ষণ ঘটলেও, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি নতুন নয়। অগস্টের গোড়ায় বীজতলা রোপণের পরে বৃষ্টি হলেও আমন চাষে জলের ঘাটতি পুষিয়ে যাবে। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক মহাদেব প্রামাণিক জানাচ্ছেন, অগস্টের প্রথম সপ্তাহ
পর্যন্ত আমন ধান রোয়া যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদারেরও দাবি, ‘‘জুলাই মাসের শেষ অংশটা বীজতলা জমিতে বসানোর পক্ষে আর্দশ সময়। তখনই জলের প্রয়োজন বেশি। তাই এখনও কিছুটা অপেক্ষা করা যাবে এবং একান্তই যদি বৃষ্টির ঘাটতি দেখা যায় তা হলে রাজ্য সরকার বিকল্প পরিকল্পনা ছকে রেখেছে। যে সব ব্লকে সেচের জলের ব্যবস্থা ভাল নয়, সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল। জেলা কৃষি দফতরের তথ্য আধিকারিক মহম্মদ হাকিমুল কবিরের দাবি, “সরকারি ভাবে সোমবার থেকেই ধান রোয়া শুরু হওয়ার কথা।কিন্তু বৃষ্টির অভাবে জেলায় চাষ শুরুই হয়নি। চাষিরা বীজতলা বাঁচাতেই ব্যস্ত।’’

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here