অজয়ের স্রোতে ভাসল ফেরিঘাট

জলের তলায় অজয়ের ফেরিঘাট, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

বীরভূম: বর্ষা আসতেই বিভিন্ন জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়া শুরু হয়ে যায়। আর জল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব পড়ে অজয় নদের উপর থাকা ফেরিঘাটে। বুধবার হিংলো জলাধার থেকে জল ছাড়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইলামবাজারের অজয় নদের উপর ফেরিঘাটের উপর দিয়ে বইছে জল। যার কারণে এই অস্থায়ী ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াত আপাতত বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বীরভূমের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের বেশ কয়েকটি গ্রামের। ফলে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবছর বর্ষার জল নামলে ইলামবাজার অজয় নদীর উপর এই জায়গায় মাটি দিয়ে একটি অস্থায়ী ফেরিঘাটের ব্যবস্থা করা হয় যাতায়াতের জন্য। যা দিয়ে প্রতিদিন অন্তত হাজার হাজার মানুষ বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্ষা এলেই প্রতি বছর একই ভোগান্তি। ভেঙে যায় ফেরিঘাট, বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। তবে এর মাঝেও আবার বাঁশের তৈরি ফেরিঘাট বানিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাইকেল এবং পায়ে হেঁটে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

ভরা বর্ষাতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীর্ণ বাঁশের তৈরি ফেরিঘাট দিয়েও স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করেন কেবলমাত্র সময় বাঁচানোর জন্য। এই ফেরিঘাট না থাকলে ঘুরপথে দুই জেলার যোগাযোগ দীর্ঘক্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী, ‘অস্থায়ী ফেরিঘাট ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে পড়তে হবে দুর্ভোগের মধ্যে।’ সে কারণে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবিও রয়েছে এই জায়গায় অজয় নদের উপর একটি স্থায়ী সেতু বানানোর।

স্থানীয়দের দাবি মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’বছর আগেই অজয় সেতু বানানোর সবুজ সংকেত দেন এবং সিলন্যাসও করে গিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও সেতু বানানোর কাজের কোনও গতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মাঝে সেতু বানানোর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সামান্য জমি জট, তাও এই মুহূর্তে কেটে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এই জায়গায় অজয় নদের উপর স্থায়ী সেতু তৈরি হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের সুবিধা, দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ হবে সুদৃঢ়।

(Visited 4 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here