বন্যার কবলে আগরতলা, ত্রাণ-শিবিরে সহস্রাধিক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 16, 2019 | 8:01 am

বন্যার কবলে আগরতলা, সহস্রাধিক মানুষ ঠাঁই নিলেন ত্রাণ-শিবিরে

আগরতলা: অবিরাম বর্ষণে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। কারণ, হাওড়া নদীর জলস্তর বিপদসীমায় ওঠানামা করছে। ইতিমধ্যে পশ্চিম জেলায় ৪৬টি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১২,৮৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সারা ত্রিপুরা মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৪৯০ জন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর। পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ড. সন্দীপ এম মহাত্মে জানিয়েছেন, হাওড়া নদীর জলস্তর ভারী বর্ষণে পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু, এখন জলস্তর স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, সমস্ত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

তিনদিন ধরে অবিরাম বর্ষণে স্বাভাবিকভাবেই ত্রিপুরায় বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। রবিবার হাওড়া নদী পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আগরতলায় বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসকের কথায়, ১৩ জুলাই ৯৫ এমএম, ১৪ জুলাই ১৬৫ এমএম এবং আজ দুপুর বারোটা পর্যন্ত ৫১ এমএম বৃষ্টিপাত হয়েছে পশ্চিম জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে আগরতলায় টানা বৃষ্টিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তিনি
বলেন, অবিরাম বর্ষণে হাওড়া নদীর জলস্তর ১৩.৭ মিটারে পৌঁছে গিয়েছিল। সাধারণত, ১০.৫ মিটার অতিক্রম হলেই বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায় জলস্তর। কিন্তু, রাতের দিকে জলস্তর অনেকটাই নেমে গিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, গতকাল রাত থেকে ফের বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আজ সকালেও প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। সূত্রের খবর, হাওড়ার জলস্তর ১০.৩ মিটারে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, বন্যা পরিস্থিতির উপর প্রশাসন প্রতিনিয়ত নজর রেখে চলেছে। হাওড়ার বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বাসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। হাওড়া-বাঁধের অবস্থার উপর কড়া নজর রাখা হয়েছে। কোনও অবস্থায় বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। পশ্চিম জেলাশাসকের বক্তব্য, আগরতলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ৩০টি শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। এগুলিতে ১,৭০০ পরিবারের প্রায় ৭,০০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। শিবিরে বসবাসকারীদের পানীয় জল, খাবার ও ঘুমনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে আগরতলা শহরেও প্রভাব পড়েছে। আগরতলার বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আগরতলায় বর্তমানে ১৪টি পাম্প জল নিষ্কাশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনেক রাস্তার জল নেমে গিয়েছে। কিন্তু কয়েকটি রাস্তা এখনও জলমগ্ন হয়ে রয়েছে৷ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাতের মধ্যে সমস্ত জল নেমে যাবে।

এদিকে, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পশ্চিম জেলায় ৪৬টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তাতে ৩,১৩০ পরিবারের ১২ হাজার ৮৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়ায় সাতটি শরণার্থী শিবিরে ২১৫ পরিবারের ৮৯৮ জন এবং খোয়াইতে চারটি শরণার্থী শিবিরে ১৫৪ পরিবারের ৬১০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বাকি জেলাগুলির মধ্যে ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের গৌরনগরে
দুটি শরণার্থী শিবিরে ২৭টি পরিবারের ১০৬ জন এবং গোমতি জেলায় একটি শরণার্থী শিবিরে ১০ পরিবারের ৩৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন। রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের আধিকারিক শরৎ দাসের মতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী আগরতলায় আরও শরণার্থী শিবির খোলা হতে পারে। তিনি আরও জানান, আগামী দু’দিন আবহাওয়া একই রকম থাকবে বলে মৌসম বিভাগের পূর্বাভাসে জানা গিয়েছে।

এদিকে, বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ আজ আগরতলায় বন্যা কবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি, শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারীদের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। বিধায়ক বলেন, প্রকৃতির উপর কারোর হাত নেই৷ তবে, মানুষের কোনও অসুবিধা যাতে না হয় সেদিকে সবরকম খেয়াল রাখা হচ্ছে৷ পাশাপাশি, বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংস্থা, রাজনৈতিক দল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট