আগরতলা-বাংলাদেশের যুগ্ম বিমানবন্দর তৈরি হলে মৈত্রীর এক নতুন বার্তা পৌঁছবে বিশ্বে : বিপ্লব কুমার দেব

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আগরতলা বিমানবন্দরের রানওয়েকে আরও প্রসারিত করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ভারত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতরে জমি চেয়েছেন বলে জানালেন তিনি। তিনি বলেন, “আগরতলা বিমানবন্দর বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে কাছে। বড় বড় আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ ওঠা নামার জন্য আগরতলা বিমানবন্দরের রানওয়ের আরও লম্বা হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে বিমানবন্দরের যে রানওয়ে রয়েছে এতে বিমান ওঠা নামা করছে স্বাভাবিকভাবে, তবে বড় আকারের এয়ারবাস নামার জন্য আরও বড় রানওয়ের প্রয়োজন।”

তিনি জানান, ভারত সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, রানওয়েকে আরও প্রসারিত করার জন্য, যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিক থেকে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়। ভারত সরকার যেন বিমানবন্দরের জমি পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে, সে বিষয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এতে উভয় দেশ লাভবান হবে। বাংলাদেশের একটি বড় অংশের যাত্রী আগরতলা বিমানবন্দর ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন জায়গা সহ বিদেশে যাতায়াত করেন, তাই তাদেরও সুবিধা হবে। বাংলাদেশ জমি দিলে তারাও একটি তৈরি এয়ারপোর্ট পাবে। এর জন্য তাদের কোনও অর্থ খরচ করতে হবে না। না হলে আগরতলা বিমানবন্দরের মতো একটি বিমানবন্দর তৈরি করতে কমপক্ষে বাংলাদেশের ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কাছে ভারত-বাংলাদেশের এই মৈত্রী-সম্পর্ক উদাহরণ হয়ে থাকবে যে একটি বিমানবন্দর দুই দেশ মিলে চালাচ্ছে। এজন্য তিনি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন ভারত সরকারের কাছে। এখন ভারত ও বাংলাদেশ সরকার মিলে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগেও তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যেহেতু বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক যাত্রী আগরতলা বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন, তাই তাঁদেরকে অনেক ঘুরে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলায় আসতে হয়। তাই বাংলাদেশের দিকে একটি টার্মিনাল ভবন হলে তাঁরা সরাসরি নিজের দেশে গাড়ি করে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের কাছে আসতে পারবেন। টার্মিনাল ভবনেই ইমিগ্রেশন শেষ করে বোর্ডিং পাস নিয়ে বিমানে চড়তে পারবেন তাঁরা। এতে বাংলাদেশবাসীর সুবিধা হবে। এখন যদি তারা বিমানবন্দরের রানওয়ে বাড়ানোর জন্য জমি দেয় তবে বাংলাদেশও বিমান পরিষেবার সুযোগ নিতে পারবে।

জানা গিয়েছে, বর্তমানে আগরতলা বিমানবন্দরকে আধুনিকীকরণ করতে আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ভবনের কাজ চলছে। আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি এটি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, আগরতলা বিমানবন্দরের সীমানা দেওয়াল থেকে মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া। এখন দেখার, বাংলাদেশ ভারত সরকারের প্রস্তাবে রাজি হয় কি না।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here