ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিক্ষোভ চাষিদের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 13, 2019 | 7:47 pm

পাঁচ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সরকারী সহায়ক মূল্যে বিক্রি করা ধানের দাম না পেয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন শতাধিক চাষী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করার পর পেরিয়ে গেছে পাঁচ মাস। তার পরেও ধানের বিক্রয় মূল্য পাননি বর্ধমান ২ ব্লকের নবস্তা পঞ্চায়েত এলাকার শতাধীক চাষী। প্রতিবাদে শনিবার তিন ঘন্টা বর্ধমান কালনা রোড অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভ দেখালেন চাষীরা। তারা সমবায় অফিসেও বিক্ষোভ দেখান। পথ অবরোধ, বিক্ষোভের জেরে এদিন এই সড়কপথে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। উত্তেজনা চরমে পৌছালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ কর্তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও চাষীরা তা মানতে রাজি হন না। তাঁরা অবরোধ বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরে ব্লকের যুগ্ম বিডিও তন্নয় চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে বেলা ১২ টা নাগাদ চাষীরা অবরোধ বিক্ষোভ তুলে নেন।

বর্ধমান ২ ব্লকের নবস্তা পঞ্চায়েতের ৯ টি গ্রামের চাষীরা নবস্তা কৃষি সমবায় সমিতিতে সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করেছিলেন। এদিনের পথ অবরোধ বিক্ষোভে সামিল চাষী বিশ্বজিৎ কোনার, মধুসূদন গুপ্ত, মুক্তিপদ গুপ্ত প্রমুখরা বলেন তাঁরা সকলেই কৃষিজীবী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে তাঁরা নবস্তা কৃষি সমবায় সমিতিতে সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করেছিলেন। সমবায় থেকে দেওয়া টোকেন নিয়ে নির্দিষ্ট রাইস মিলে সেই ধান পৌঁছে দেন । চাষী বিশ্বজিৎ কোনার বলেন, তাঁদের সকলের মিলিয়ে ধান বিক্রি বাবদ পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। মাসের পর মাস সমবায় শুধু টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গেছে। মাঝে সমবায় কর্তৃপক্ষ বলে লোকসভা ভোট মিটলেই চাষীরা ধান বিক্রির টাকা পেয়ে যাবে। কিন্তু এখন সমবায় দায় এড়িয়ে গিয়ে বলছে ধান বিক্রির টাকা কবে মিলবে তার কোনও উত্তর তাঁদের কাছে নেই। ব্লক প্রশাসনও দায় এড়িয়ে যায়। অপর চাষী বিধান দাঁ বলেন , পাঁচ মাস আগে ধান বিক্রি করে টাকা না মেলায় চলতি বর্ষায় তাঁরা কেউই চাষ শুরু করতে পারছে না। অর্থের অভাবে সকলের সংসার চালানোও দায় হয়ে উঠেছে।

একই রকম সমস্যায় পড়েছেন জামালপুরের ব্লকের সেলিমাবাদ গ্রামের চাষী মনিরুল ইসলাম। ছ’মাস আগে তিনি সেলামাবাদ সমবায় সমিতিতে সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করেছিলেন। ধান বিক্রি বাবদ পাওনা লক্ষাধিক টাকা তিনি এখনও হাতে পাননি। প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরেও কারোর কাছ থেকেই তিনি টাকা মেলার কোন আশ্বাস পাননি। মনিরুল বলেন, এই অবস্থায় চরম সংকটের মধ্যে সপরিবার তাঁকে দিন কাটাতে হচ্ছে। নবস্তা গ্রামের চাষীরা এদিন বলেন, নিরুপায় হয়েই তাঁরা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে বাধ্য হয়েছেন।

চাষীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে নবস্তা সমবায়ের ম্যানেজার অপূর্ব চৌধুরী বলেন, বেনফেডের পূর্বতন ম্যানেজারের মৌখিক কথায় ভরসা করে চাষীদের কাছ থেকে ধান কেনাটা আমাদের ভুল হয়ে গেছে। বেনফেডের বর্তমান ম্যানেজার এখন পূর্বতন ম্যানেজারের মৌখিক আদেশের কথা মানছেন না। চাষীরা যে ধান বিক্রি করেছে তার দায় নিতে চাইছে না বেনফেড। এই সমস্যার কারণে চাষীদের পাওনা টাকা পাওয়ার বিষয়টি ঝুলেই রয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে এতদিন কেন রাজ্যের খদ্য দফতরকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে তার কোনও সদুত্তর অবশ্য সমবায়ের ম্যানেজার দিতে পারেননি। বর্ধমান ২ ব্লকের যুগ্ম বিডিও তন্ময় চক্রবর্তী যদিও এদিন চাষিদের জানিয়েছেন, ধান বিক্রির টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *