ভয়াবহ বন্যায় বানভাসি ৮.৬৯ লক্ষ মানুষ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | July 13, 2019 | 5:58 pm

অসমে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, মৃত পাঁচ, বানভাসি ২১ জেলার ৮.৬৯ লক্ষ মানুষ

গুয়াহাটি: সংহারী রূপ ধারণ করেছে অসমের বন্যা পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ২১টি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১৭টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে বলে জানিয়েছিলেন রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই সংখ্যা ২১-এ পৌঁছেছে। জানা গেছে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের ২১ জেলার ৬৮টি রাজস্ব সার্কলের ১,৫৫৬টি গ্রামের ৮,৬৯,০২৪ জন বাসিন্দা ভয়াবহ প্লাবণের শিকার হয়েছেন। গতকাল এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, তলতি বন্যায় পাঁচ এবং ভূমিধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার জলে নিখোঁজ হয়েছে এক। এছাড়া ২৭,৮৬৪,১৬ হেক্টর কৃষিজমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

বন্যাক্রান্ত জেলাগুলি যথাক্রমে উজানের ধেমাজি, লখিমপুর, মাজুলি, যোরহাট, শিবসাগর, ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া, গোলাঘাট, মধ্য অসমের বিশ্বনাথ, শোণিতপুর, মরিগাঁও, হোজাই, নগাঁও, নিম্ন অসমের দরং, বাকসা, নলবাড়ি, বরপেটা, চিরাং, বঙাইগাঁও, কোকরাঝাড় এবং গোয়ালপাড়া, জানিয়েছেন রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ।

সরকারি তথ্য বলছে, বরপেটা জেলায় তিন লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এভাবে গৌরীপুরে অর্ধশতাধিক গ্রাম, কাজিরঙা জাতীয় উদ্যান ও পবিতরা অভয়রণ্যও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে পশুকুল বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে। উত্তর অভয়াপুরিতে আই-মানস নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ৩৪ নম্বর অভয়াপুরি উত্তর বিধানসভা এলাকার নাম্বারপাড়া-চাকলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তৰ্গত কৃষিপ্ৰধান নাম্বারাপাড়া তৃতীয় খণ্ড, বাংলাপাড়া, শৌলমারি, নোয়াগাঁও, ঝাউবাড়ি প্রভৃতি অঞ্চলের শ শ বিঘা শাইল ধান, পাটের খেত-মাঠ প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হাহাকার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন নতুন এলাকা বানভাসি হয়ে পড়েছে নলবাড়ির। জামুগুড়িহাটের গাইড-বাঁধ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। নগাঁও, হোজাই, ভবানীপুর, দরং, বাকসা জেলার পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।

এখন পর্যন্ত বন্যায় পাঁচ এবং ভূমিধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার গুয়াহাটির গরচুকের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সি জনৈক নারায়ণ সাহা ভূমিধসের কবলে পড়ে মারা গেছেন। অন্য দুজন গোলাঘাট ও ধেমাজিতে বন্যার কবলে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া গতকাল বোকাখাত মহকুমার কামারগাঁও থানার অন্তর্গত সাগর ভুইয়াঁ (৬৭) এবং অমৃত হাজরিকা ওরফে পিঙ্কু (২৪)-র মৃত্যু হয়েছে বন্যার জলে পড়ে। এছাড়া ধুবড়ি জেলা সদরের পার্শ্ববর্তী শিলাঘাগরি প্রথমখণ্ডের জনৈক আতিকুল হক (১২) বন্যার জলে তলিয়ে গেছে। তাকে উদ্ধার করতে নেমেছে এসডিআরএফ।

রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের সূত্র জানিয়েছে, উজানের ডিব্রুগড় থেকে গুয়াহাটি ও তার ভাটি এলাকায় প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রের পাশাপাশি ডিব্রুগড়ের খেরাঙে বুঢ়িদিহিং, শিবসাগরে দিসাং, গোলাঘাটে ধনশিরি, দরিকা, জাজি, শোণিতপুরে জিয়াভরালি, নগাঁওয়ে কপিলি, কামরূপে পুঠিমারি, বরপেটায় বেঁকি এবং বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জের কুশিয়ারা ও হাইলাকান্দির কাটাখাল নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তাছাড়া চড়াইদেও  (বৃহত্তর যোরহাট জেলা) জেলার চারকড়িয়া, ডাংধরা ও শেলাছারিয়া উপনদীর গ্রাস করেছে এলাকার বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল। সূত্রের দাবি, বানভাসিদের উদ্ধারে ন্যাশনাল ডিজেস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) এবং স্টেট ডিজেস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ)-এর পর্যাপ্ত জওয়ানরা অহর্নিশি কর্তব্য পালন করছেন।

সূত্রটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বন্যাপীড়িতদের জন্য বিভিন্ন জেলায় মোট ৬৮টি ত্রাণশিবির স্থাপন করা হয়েছে। এগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন ৭,৬৪৩ জন বন্যা-শরণার্থী। তাদের প্রদান করা হচ্ছে খাদ্য, পানীয় জল ইত্যাদি ত্রাণ সামগ্রী। নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ২৭,৮৬৪,১৬ হেক্টর কৃষিজমির ধান।এদিকে হিন্দুস্থান সমাচার-এর বিভিন্ন বন্যাক্রান্ত এলাকার সাংবাদদাতা সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, অসংখ্য বানভাসি আবালবৃদ্ধবনিতা তাদের গৃহপালিত গবাদি পশু ইত্যাদি নিয়ে নিজস্বভাবে নদী তীরবর্তী বাঁধের ওপর ঠাই নিয়েছেন। কোথাও কোথাও অবশ্য সরকারি প্লাস্টিকের ত্রিপাল ও অপ্রতুল খাদ্যসামগ্রী বিলি করা হচ্ছে।

ক্লিক করুন এখানে, আর চটপট দেখে নিন ৪ মিনিটে ২৪টি টাটকা খবরের আপডেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *