বাংলার ৫ শ্রমিক হত্যার জের, কাশ্মীর ছাড়ছে অন্য রাজ্যের শ্রমিকরাও

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্কঃ সম্প্রতি কাশ্মীরের কুলগামে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘীর ৫ শ্রমিককে খুন করা হয়। তাঁর পরেই নিরাপত্তার জন্য বাংলার বাকি শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। শুধু তাই নয় মৃত্যু ভয় যেন কাটাতে পারছেন না কাশ্মীরের অভিবাসী শ্রমিকেরা। উপত্যকা ফাঁকা করে দলে দলে তারা নিজ বাসভূমিতে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছেন। বর্তমান অবস্থা বিচার করে যা উপত্যকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য একটা বড়সড় ধাক্কা বলে মনে

করছে ওয়াকিবহাল মহল। যা কাশ্মীরের রিয়েল এস্টেট সেক্টরের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত ইঁটভাটা এবং সিমেন্ট শিল্পের তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্রের খবর, বর্তমানে কাশ্মীরে ভিন রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষ অস্থায়ী শ্রমিকের বসবাস রয়েছে। পাশাপাশি কার্গিল, লেহ, শ্রীনগর ও জম্মু মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ ভিন রাজ্যের শ্রমিক রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই উদ্যান এবং কৃষি ক্ষেত্রে বাদে রিয়েল এস্টেট সেক্টরের সাথে যুক্ত।

আরও পড়ুনঃ সাগরদিঘীতে মৃত পাঁচ শ্রমিকের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

অন্যদিকে কাশ্মীরি জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ যা মূলত বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত শ্রমিকদের উপরই নির্ভরশীল। যদিও বর্তমানে নতুন করে অশান্তির ঘটনার পরই প্রচুর শ্রমিক উপত্যকা ত্যাগ করেন। যার ফলে এখন কিছু কিছু জায়গায় প্রায় দ্বিগুণ বেতন দিয়ে তবে স্থানীয় শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাসিক বেতনের পরিমাণ ৩০,০০০ কোটাও ছাড়াচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কমফোর্ট ভিশন ডোমেস্টিক হেল্প সার্ভিসের প্রধান ইরফান আহমেদ বলছিলেন “এই হত্যাকাণ্ডের ফলে অভিবাসী শ্রমিক ও অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। আমি প্রতি মাসে গার্হস্থ্য সহায়তার জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভিন রাজ্যের লোক পেয়েছি। অক্টোবর মাসে তাদের মধ্যে মাত্র সাতজন কাজে যোগ দিয়েছেন। আমাদের কাছে কিছুদিন আগে প্রায় ১৪০ জন ভিনরাজ্যের কর্মচারী ছিল তাদের মধ্যে ৬০ জনই অক্টোবর মাসে চলে গেছে। ”

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে সাগরদিঘীর পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর পর আতঙ্কিত অন্যান্য শ্রমিকের পরিবার

এদিকে ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের হত্যার পাশাপাশি চলতি সপ্তাহের ৪ঠা নভেম্বর শ্রীনগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম গনি খান মার্কেটে একটি গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রাণ যায় উত্তর-প্রদেশের সাহারানপুর জেলার রিঙ্কু সিং নামে এক অভিবাসী বিক্রেতার। ২০ জনেরও বেশি পথচারী ওই হামলার ঘটনায় আহত হয়। এই ঘটনার জেরে ১৪ই অক্টোবরের পর উপত্যকায় অস্থায়ী শ্রমিক ছাড়াও অন্য অসংগঠিত ক্ষেত্রে পেশার সাথে যুক্ত ভিন রাজ্যের মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২।

MIJANUR

(Visited 9 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here