৩৭০ ধারা বাতিল: কংগ্রেস-তৃণমূল ‘কালো দিন’ বললেও, সমর্থন বেশিরভাগ বিরোধী দলের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে পৃথক দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সোমবারই রাজ্যসভায় জম্মু কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এই বিল পাশ করাতে গেলে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করলেই হবে। দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন নেই। লোকসভায় একাই তিনশো-র বেশি আসন দখল করতে পারলেও রাজ্যসভায় এখনও সংখ্যালঘু বিজেপি তথা এনডিএ। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই দেখা যায়, বিল পেশ হওয়া মাত্রই বিজু জনতা দল, বহুজন সমাজ পার্টি, এআইডিএমকে, জগন্মোহনের ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও সরকারকে সমর্থন জানায়। সরকারের প্রস্তাবে শুধু বিরোধিতা করে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সংযুক্ত জনতা দল।

রাজনৈতিক শিবিরের মতে, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি সরকারের এই সিদ্ধান্তের জেরে সিদ্ধান্ত সংকটে পড়ে গিয়েছে। কারণ এই বিলের বিরোধিতা না করলে যেমন সংখ্যালঘুরা অখুশি হবেন ঠিক তেমনই তীব্র বিরোধিতা করলে তা সংখ্যাগুরুর ভাবাবেগে আঘাত দিতে পারে।

এ দিন সংসদে অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বহুজন সমাজ পার্টির নেতা সতীশ মিশ্র বলেন, “ব্যাপারটা শুধু জম্মু কাশ্মীরের সংখ্যালঘু আবেগের দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। মনে রাখতে হবে দেশের অন্য অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের জম্মু কাশ্মীরে গিয়ে নাগরিকত্ব লাভ করার অধিকারও নেই। এটা চলতে পারে না”। বিজেডি সাংসদ প্রসন্ন আচার্য বলেন, “পুনর্গঠনের প্রস্তাবে আমরা সমর্থন করছি। আঞ্চলিক দল হলেও আমাদের কাছে দেশই প্রথম”। একই ভাবে এআইডিএম-ওয়াইএসআর কংগ্রেসেরও বক্তব্য, এক দেশে দু’রকম সংবিধান থাকতে পারে না। সেই কারণেই সরকারের পদক্ষেপে সমর্থন জানানো হচ্ছে। শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, এতোদিনে ভস্মাসুরের বিনাশ হল। ৩৭০ ধারা দেশের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে রাখার প্রতীক ছিল। শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন “ভারত আজ আক্ষরিক অর্থেই স্বাধীন হল।”

আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল বলেন, “ জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা সমর্থন করছি। আশা করি এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য শান্তি ফিরে আসবে। উন্নয়ন হবে।” প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশংসা করে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, “একটা ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধন হল। সংবিধানের ৩৬৮ ধারাকে না মেনে পিছন দরজা দিয়ে ৩৫এ ধারাকে আনা হয়েছিল।”

এই সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি নিজে এখনও গৃহবন্দি আছেন। ট্যুইট করে তিনি বলেন, ‘‘৩৭০ ধারা বিলোপ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।’’ তীব্র প্রতিবাদ করে কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘‘আজ গণতন্ত্রকে খুন করল বিজেপি।’’ এর বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাও। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করলে ফল ভাল হবে না আগেই বলেছিলেন তিনি। সোমবার তিনি জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অসাংবিধানিক। কোনও রকম আলোচনা না করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অনৈতিক ছাড়া আর কিছুই নয়।

কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেন, দেশের ইতিহাসে কালো দিন, এর মাধ্যমে দেশের অখণ্ডতা বিনষ্ট হওয়ার সূচনা হল।

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here