শীঘ্রই বিজেপিতে বাংলার এক ঝাঁক বিধায়ক যোগ দেবে !

ঋষি কাশ্যপ, বারাসত : সিকিমের ছবি এবার দেখা যাবে বাংলার রাজনীতিতেও। বাম তৃণমূল ছেড়ে বিরাট সংখ্যক বিধায়ক ধাপে ধাপে যোগ দেবে বিজেপিতে। মঙ্গলবার বারাসতে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে এসে রুদ্ধদ্বার কর্মী বৈঠকে কর্মীদের এভাবেই চাঙ্গা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসে বিভিন্ন পুরসভা পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের যখন ফের তৃণমূলে ফেরার হিড়িক তখন দীলিপ ঘোষের দাবি সত্যি হলে তো বদলে যাবে বাংলার বিরাট সংখ্যক বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিকদের ভবিষ্যৎ। বিজেপি কি তাহলে এই ছক কষেছিল?

বিজেপির সদস্যতা সংগ্রহ কার্যত দিদিকে বলো কর্মসূচিকে টেক্কা দিয়েছে। এমন দাবি করে এক রাজ্য নেতার ব্যাখ্যা, তৃণমূলের বিধায়করা দিদিকে বলো কর্মসূচিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ছে। আর বিজেপির সদস্যতা বাড়ছে। ছক তো আছে তবে তার থেকে বেশি কাজ করছে আবেগ। বামেদের তরুণ প্রজন্ম এখন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। আরএসএস এর কার্যকর্তাদের মিটিংএ যোগ দিচ্ছে। শুধু বাম নেতৃত্ব নয় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাও তা পরিস্কার বুঝতে পারছে। বাম থেকে আসারা পদ নয় কাজ করতে চাইছে। করছেও। সদস্য বৃদ্ধি থেকে সংগঠনের দেখাশোনার কাজে বাম থেকে আসারা মন দিয়ে করছে।

এদিন দীলিপ ঘোষের বৈঠকে যোগ দেওয়া কর্মীদের মধ্যে বাম থেকে আসা দের সংখ্যা পুরানো বিজেপির থেকে খুব একটা কম ছিল না। দীলিপ ঘোষ বলেন বারাসতে নতুন করে সদস্য হয়েছে দুই লাখ। সংখ্যাটা চার লাখ করতে হবে। সবার বাড়ি বাড়ি যান। আপনার এলাকার বাসিন্দারা কেউ বাম, কেউ তৃণমূলের চামড়া পরে আছে। চামড়া সরিয়ে দেখুন সবাই গেরুয়া। অপেক্ষা করুন কিছুদিনের মধ্যে সিকিমের মত বহু বাম তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে আসবে।

বারাকপুর বনগাঁ লোকসভা সহ রাজ্যের বিভিন্ন লোকসভা এলাকার পুরসভা পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা বিজেপি থেকে ফের ফিরে যাচ্ছে তৃণমূলে। তখন দীলিপ বাবুর এই দাবি কতটা কতটা যৌক্তিক ?

এই ফেরত যাওয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের দীলিপ ঘোষ বলেন , ‘যে কাউন্সিলররা তৃণমূল থেকে আমাদের দলে এসেছিলেন, তাঁরা এখানে টাকা কামাতে পারছেন না। ক্ষমতাও ভোগ করতে পারছেন না। তাই তারা ক্ষমতা ও টাকা কামানোর জন্য আবার তৃণমূলে ফিরে যাচ্ছেন।’ তারপরই মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদের মন্তব্য, ‘বিজেপিতে আসার জন্য লাইন লেগে গিয়েছে। আমরা এখন থেকে বেছে বেছে দলে নেব।’

অর্থাৎ , কাটমানি আর দলবদল করা রাজনীতিকদের ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকার। দীলিপ ঘোষ কর্মীদের এ প্রসঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেন, বিভিন্ন দলের সচ্ছ নেতা জনপ্রতিনিধিদের বিজেপিতে নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের সচ্ছ প্রমাণ করে আসতে হবে।

দুর্গাপুজোয় আয়কর নোটিস ধরানো প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, ‘দুর্গাপুজোয় চিটফান্ডের টাকা ছিল। তাই, সেই সব ক্লাবকে আয়কর নোটিস ধরানো হয়েছে। কিন্তু পুজোয় কোনও বাধা দেওয়া হবে না। আয়কর নোটিস নিয়ে সব চেয়ে বেশি চিৎকার করছেন দিদি ও তার চারপাশের কিছু লোক । তার অর্থ ডাল মে কুছ কি কালা হ্যায়?’

২০২১ এর আগে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে বিজেপি ফেলতে পারবে কি না প্রশ্নে দীলিপ ঘোষের ব্যাখ্যা , ‘শাসক দল ভয় পেয়েছে। তাই পুরসভা ও কলেজের ছাত্র সংসদ ভোট করাচ্ছে না। যেখানেই ভোট হচ্ছে, সেখানেই বিজেপি জিতছে। আমাদের শেখানো পদ্ধতি প্রশান্ত কিশোর ওদের শেখাচ্ছে। তাতে কোনও লাভ হবে না। এক গাছের ছাল আরেক গাছে লাগে না।’

এদিন দিলীপ ঘোষের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন বাগদার বিধায়ক দুলাল বর, বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শংকর চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যরা। সেখানে কর্মীদের সঙ্গে দিলীপ একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেন।

(Visited 11 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here