কংগ্রেস ছাড়লেন অসমের প্রাক্তনমন্ত্রী গৌতম রায়, রবিবারই যোগ বিজেপিতে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেক্ম: একে একে দল ছাড়ছেন কংগ্রেসের দিগগজ নেতারা। যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলকে বিব্রত করে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন অসমের টানা চার দশকের মন্ত্রী, রাজ্য তথা বরাক উপত্যকার এককালের ‘সম্রাট’ তথা ‘বরাকের স্বয়ম্ভূ মুখ্যমন্ত্রী’ গৌতম রায়। তবে গৌতমের দলত্যাগ অবশ্যম্ভাবী ছিল, শুধু সময়ের অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

শনিবারই অসম প্ৰদেশ কংগ্ৰেস সভাপতি রিপুন বরার কাছে এক চিঠি লিখে দল থেকে তিনি বিদায় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খোদ বরিষ্ঠ নেতা গৌতম রায়। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্ৰেসে ত্রিশ বছর ধরে একনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করেছি। কংগ্ৰেসের সদস্য হিসেবে সুখিও ছিলাম। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে দলের কাজকর্ম এবং গতিবিধি মেনে নেওয়া আমার পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই আজ আমি দলের প্ৰাথমিক সদস্যপদ এবং সকল দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলাম।…’

এদিকে সূত্ৰের খবরে প্রকাশ, রবিবার  বেলা সাড়ে ১১টায় গুয়াহাটিতে বিজেপির প্ৰদেশ সদর দফতরে বিশেষ যোগদান অনুষ্ঠানে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেবেন গৌতম রায়। অনুষ্ঠানে প্রদেশ সভাপতি রঞ্জিতকুমার দাস এবং অসমে মন্ত্ৰী তথা নেডা-র আহ্বায়ক ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা তাঁকে দলে বরণ করবেন।

কংগ্ৰেসত্যাগী নেতা গৌতম রায় বলেন, “ক্ষমতার লোভে আমি বিজেপিতে যাচ্ছি না। দলের একজন সাধারণ কার্যকর্তা হয়েই থাকব মোদীজির দলে৷ বিজেপির নীতি-আদৰ্শ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্ৰ মোদীর কাজকর্মে আকৃষ্ট হয়েই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বরাক উপত্যকার ছেলে। আগে কংগ্রেস আমলেও দেখেছি, আর এখন গত তিন বছরের বিজেপি আমলেও দেখছি। বরাকের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে চলছে। যা এতদিন স্থবির করে রেখেছিল কংগ্রেস সরকার।”

এক প্রশ্নের উত্তরে গৌতম বলেন, “হ্যাঁ, আমি বহু বছর বহু দফতরের মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু মাথা যদি কাজ করতে না দেয়, তা-হলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করবে কী করে, তাই নিজে মন্ত্রী থেকেও বরাক উপত্যকার উন্নয়ন করতে পারিনি।” অকপট স্বীকারোক্তি গৌতম রায়ের।
উল্লেখ্য, বরাক উপত্যকায় কংগ্রেসের সর্বেসর্বা তথা বরাক-সম্ৰাট হিসেবে খ্যাত গৌতম রায় সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রকাশ্য রাজপথে আবির খেলে উল্লাস প্ৰদৰ্শন করেছিলেন। এ ঘটনায় অস্বস্তিতে পরেছিল কংগ্ৰেস।

বরাক উপত্যকার দুই আসনে বিজেপি-প্রার্থী জয়ী হওয়ার পর তিনি মিষ্টি খেয়ে ও খাইয়ে, হোলি খেলে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন, এই দৃশ্য টিভি চ্যানেলে দেখে বাকরুদ্ধ হয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি রিপুন বরা-সহ অনেকে।

এর পর গত ১৬ জুন দলবিরোধী কার্যকলাপের দায়ে বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায়কে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিলেন প্রদেশ সভাপতি রিপুন বরা। তবে ওই নোটিশের কোনও জবাব দেননি গৌতম।

(Visited 5 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here